পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের বিতর্কিত বার্তা

পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের বিতর্কিত বার্তা

বাংলাদেশের একদল কথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওবার্তায় তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-কে “স্বাধীন রাষ্ট্র” হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ নতুন কোনো রাষ্ট্র গঠিত হলে সেটিকে স্বীকৃতি দেবে।

তবে এই বক্তব্যের পক্ষে বাংলাদেশের সরকার বা কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, যার সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি নীতির সরাসরি সম্পর্ক নেই।

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ঘিরে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে ছিল

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি-র বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে তাদের ভোটে জয়ী হচ্ছিলেন বলে দাবি করছিল বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রায় প্রতিটি প্রচারেই নিয়ম করে বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা যুবদের চাকরি খাচ্ছে, গরিবের ভাত খাচ্ছে। বিজেপির সরকার এ বার হবেই। একজন অনুপ্রবেশকারীকেও রেয়াত করা হবে না। ভারত ধর্মশালা নয়, আমাদের ভূমি। যাঁরা সেই ভূমি কব্জা করেছে, আইন মেনে তাদের জেলে পাঠানো হবে।’

মহম্মদ নুরুল হুদার মন্তব্য অত্যন্ত বিতর্কিত

পশ্চিমবঙ্গে এখন ক্ষমতায় এসে গিয়েছে বিজেপি। আর তাতেই শিরে সংক্রান্তি দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই বিএনপি সুর নরম করে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি-কে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছে। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি তৈলমর্দন শুরু করে দিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে সংগঠনের নেতা মহম্মদ নুরুল হুদার মন্তব্য অত্যন্ত বিতর্কিত। সে বলছে, ‘বিজেপি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে।’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে একটি বিতর্কিত বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে।

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে ১৭ কোটি বাংলাদেশি’

ওই বার্তায় দাবি করা হয়েছে, বিজেপি ভোটে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ক্ষমতা হস্তান্তর না করা। বার্তাটিতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করে সমর্থনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দাবি করা হয়েছে, দিল্লির আধিপত্য থেকে প্রতিটি রাজ্যের মুক্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রত্যেক রাজ্যের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাধীনতা থাকা উচিত। বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়েছে, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে ১৭ কোটি বাংলাদেশি।’

একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, মহম্মদ নুরুল হুদা নামে এই ব্যক্তি কট্টর জামাতপন্থী নেতা বাংলাদেশের। বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে একটি সংগঠনও চালায়। মোদ্দা বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পরেই বাংলাদেশের জামাত নেতাদের যে পা কাঁপছে, তার উদাহরণ এই পোস্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ফলে সীমান্তবর্তী কোনো অঞ্চলের স্বাধীনতা বা বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে অবস্থান নেবে— এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যাচাইহীন ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য এবং উসকানিমূলক প্রচারণা দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে একটি সংগঠনের নেতা মহম্মদ নুরুল হুদার কত স্পর্ধা! তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে ১৭ কোটি বাংলাদেশি। স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ ঘোষণা করা হোক।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।