চীনের পক্ষে অবস্থান বাংলাদেশের, ভারত ক্ষুব্ধ ঃ ভারতীয় পত্রিকা

প্রতিবেশী ডেস্কঃ ভারতে গিয়ে চীনের পক্ষে অবস্থান নিলেন পররাষ্ট্র সচিব! বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে দিল্লি সফর করছেন। সেখানে তিনি চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রজেক্টের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। চীনে বেল্ট এন্ড রোড প্রজেক্টের ঘোর বিরোধী ভারত।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর হয়ে এই রোড যাওয়ায় দিল্লী তাতে যোগ দেবেনা বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশকেও এর বাইরে রাখার চেষ্টা করেছে। তবে গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় প্রজেক্টে যোগ দেয়ার চুক্তি করে বাংলাদেশ।

এতে ভারত ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভের মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার শহীদুল হক বেল্ট এন্ড রোডের পক্ষে ঢাকার অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশ একঘরে হয়ে বসে থাকতে পারেনা। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় চীনের এই প্রজেক্ট থেকে ঢাকা সরে আসবে না।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের ব্যাপারে ভারতের সাথে আলোচনা শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে দুটো দেশ একসাথে আছে এবং একসাথে থেকেই তারা এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত বলিষ্ঠ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের চুপ থাকা নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের ভেতরে ও বাইরে চাপা ক্ষোভের মধ্যেই পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক অন্তত প্রকাশ্যে একথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিবিসির দিল্লি সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ।

বাংলাদেশ সরকার চাইছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে ভারত সরকার আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা নিক। কিন্তু এবিষয়ে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট কোন আশ্বাস পেয়েছে কিনা তার সফরে এবং বক্তব্যে সেটা স্পষ্ট হয়নি।

তবে মি. হক জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে ভারত যেভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোরালো অবস্থান নিয়েছে তাতে বাংলাদেশ সরকার খুশি।

তিনি বলেন, অনেক দেশই কিন্তু অনেক কথা বলেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্যে ত্রাণ-সাহায্য ভারতই পাঠিয়েছে প্রথম।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যে জাতীয় বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, ভারতের এই মূল্যায়নের সঙ্গেও বাংলাদেশ একমত বলে জানান তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লিতে শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে ভারতের কাছ থেকে তারা এধরনের সহযোগিতাই আশা করেছিলেন।

ভারত সরকার বলে আসছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জাল ছড়াতে চাইছে এবং তাদের মধ্যে থেকে নতুন ‘রিক্রুট’ নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত মাসে আদালতে হলফনামা দিয়ে দিল্লি সরকার রোহিঙ্গাদেরকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জানান, তারাও এই বিপদের সম্ভাবনাটি সম্পর্কে অবহিত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।