খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, কোনো খাদ্যপণ্যের পরীক্ষায় বিরূপ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ফলাফল পাওয়া গেলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নমুনা পরীক্ষণ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যপণ্যের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা। অনিরাপদ খাদ্য বাজার থেকে অপসারণ করা, সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ীকে আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা। সর্বোপরি জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য সানসিলা জেবরিনের জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ২১০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করেছে। বোতলজাত পানি, ভোজ্যতেল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, দই, গুঁড়া মশলা, শিশু খাদ্য ও বেকারি পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত এবং ঝুঁকিভিত্তিক পরীক্ষা সরকারি অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে করা হয়।
তিনি জানান, খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাঠপর্যায়ের ৭২টি কার্যালয় থেকে প্রতি মাসে ১৪৪টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি হতে আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ২১০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৯টি বোতলজাত পানিতে ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, আয়রন, লেড; ৫৪টি ভোজ্য তেলে ট্রান্স-ফ্যাট, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু; ৩৩টি দুধের নমুনায় মিল্ক ফ্যাট, মিল্ক প্রোটিন, লেড, মেলামাইন; ৩টি দইয়ের নমুনায় মিল্ক ফ্যাট, মিল্ক প্রোটিন, সোডিয়াম সাইক্ল্যামেট; ৫টি শিশু খাদ্যের নমুনায় লেড; ৭৯টি গুঁড়া মশলার নমুনায় লেড, ক্রোমেট, সুদান ডাই; ১৫৭টি বেকারি পণ্যে হাইড্রোক্স, পটাশিয়াম ব্রোমেট পরীক্ষা করা হয়।
এ ছাড়া পাঁচটি শিশু খাদ্যের নমুনায় লেড, ৭৯টি গুঁড়া মশলার নমুনায় লেড, ক্রোমেট ও সুদান ডাই এবং ১৫৭টি বেকারি পণ্যে হাইড্রোক্স ও পটাশিয়াম ব্রোমেট পরীক্ষা করা হয়েছে।
আফরোজা খানম বলেন, নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিএফএস-এর ৭২টি কার্যালয়ে মিনি ল্যাব এবং আটটি মোবাইল ভ্যান ল্যাবরেটরি রয়েছে। তবে নিজস্ব ভবন ও খাদ্য নমুনা পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরি না থাকায় বর্তমানে ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি অনুমোদিত ল্যাবরেটরির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।



