× Banner
সর্বশেষ
তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও সততার নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ঢাকাস্থ বেনাপোল সমিতি’র বার্ষিক সাধারণ সভা ও স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন রাজনৈতিক বিতর্ক ছেড়ে কৃষি উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর দিন: মির্জা ফখরুল চলতি মৌসুমে পাইকগাছার চারা শত কোটি টাকার চারা বিক্রির সম্ভাবনা ৬ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত গ্লোবাল এআই লিডারশিপ কনফারেন্স ২০২৬, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আহ্বান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

কালীগঞ্জে সংখ্যালঘু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের জমি বিনা টাকায় লিখে নিলো এক প্রভাশালী

Dutta
হালনাগাদ: রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
jhinaidah

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের নরোত্তম নামে এক সংখ্যালঘু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের ১শ ৩ শতক জমি বিনা টাকায় রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে একই গ্রামের স্বপন বিশস নামে এক প্রভাবশালী মাতুব্বর। বৃদ্ধ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মহাদেবপুর গ্রামের মৃত কুঞ্জ বিহারীর ছেলে নরোত্তম মন্ডল। এবং জমি ক্রয়কারী স্বপন বিশস একই গ্রামের মৃত সন্তোষ বিশসের ছেলে।

বিক্রয়কৃত দলিলে উল্লেখিত, গত-১৯/০২/২৩ ইং তারিখে উপজেলার ৮ নং মহাদেবপুর মৌজার মহাদেপুর গ্রামের নরোত্তম মন্ডলের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া আরএস দাগ নং-৩২৮ বাস্ত শ্রেনীর ১২.০০ শতক, আরএস দাগ নং-১৭৩৬ ডাঙ্গা শ্রেনীর ০৫.৫০ শতক, আরএস দাগ নং-১৮০৩ ডাঙ্গা শ্রেনীর ১৮.০০ শতক, আরএস দাগ নং-১৮৯৮ ডাঙ্গা শ্রেনীর ১২.০০ শতক, আরএস দাগ নং-২৩০২ ডাঙ্গা শ্রেনীর ০৯.০০ শতক, আরএস দাগ নং-২৪০৭ ডাঙ্গা শ্রেনীর ১২.৫০ শতক জমি। এই ৬টা দাগের ৬৯ শতক জমি এবং আরএস দাগ নং-১৮৫৩ ডাঙ্গা শ্রেনীর ৩৪.০০ শতকসহ মোট ১ একর ৩ শতক জমি, স্বপন বিশ^াস ১০ লক্ষ ১৬ হাজার টাকায় জমি নিজের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয় বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়। একই দলিলে এই ১শ ৩শতক জমি মধ্যে ১২ শতক জমি ১ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল এলাকার গয়েসপুর গ্রামের মৃত ননী গোপাল মন্ডলের ছেলে অধির কুমার মন্ডলের কাছে বিক্রয় করা হয়। একই দলিলে ১শ ৩শতক জমির মধ্যে ৬৯ শতক জমি স্বপন বিশ^াস এবং ৩৪ শতক জমি অধির কুমার মন্ডল ক্রয় করেছেন বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপরে বৃদ্ধ নরোত্তম মন্ডল বলেন, স্বপন বিশস আমার কাছে কিছু বলেননি। আমার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে আমার বাড়িতে রেজিষ্ট্রি অফিসের লোকজন এসে আমার আইডি কার্ড দেখে নাম ঠিকানা লিখে নিয়ে যায়। আমি পরে শুনতে পেলাম আমার সমন্ত জমি নাকি আমার স্ত্রী স্বপন বিশসের কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে। আমাদের বসবানের জন্য ২ রুম বিশিষ্ট একটা বাড়ি করে দিয়েছেন স্বপন বিশস । এই বাড়িতে আমি এবং আমার স্ত্রী বসবাস করছি। আমার ৩ মেয়ে অনেক আগেই ভারতে চলে গেছে। তাদের সবাই ভারতেই বিয়ে করে ঘর সংসার করছে। এখন আমি মাছ মারা জাল বুনে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাচ্ছি। আমি এ ব্যাপারে যদি আমার স্ত্রীকে কিছু বলি তাহলে আমার স্ত্রী আমার সাথে ঝগড়া করে এজন্য আমি আর কিছু বলি না।

স্থানীয়রা জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের সদ্য অবসরে যাওয়া ক্ষেত্র সহকারি স্বপন বিশস কালীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক নাসির চৌধুরীকে অসহায় নরোত্তম মন্ডলের বাড়িতে এনে টাকা না দিয়েই ১শ ৩শতক জমি কৌশলে নিজের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া ঠিক হযনি। কারন নরোত্তম মন্ডল একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি বৃদ্ধ মানুষ। তার কোন ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ে আছে তারা অনেক আগেই ভারতে চলে গিয়াছে। এখানে শুধু নরোত্তম এবং তার স্ত্রী থাকেন। নরোত্তমের স্ত্রীকে হাত করে তিনি এই কাজটি করেছেন। এবং সেখান থেকে ৩৪ শতক জমি বিক্রয় করে রেজিষ্ট্রি খরচ এবং তার ক্রয়কৃত জমিতে নরোত্তমের বসবাসের জন্য দুই রুম বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর করে দিয়েছেন। স্বপন বিশসের উদ্দেশ্য খারাপ, কারন নরোত্তমের পরিবারের লোক থাকতেও তাদের সনাক্তকারী না করে, স্বপন বিশসের ভাই সরোজিত বিশসের ছেলে সুজিত বিশসকে সনাক্তকারী করেন। এবং স্বাক্ষী হিসাবে স্বপন বিশসের ছেলে সোহাগ এবং শ্যালক একই গ্রামের ধীমানের নাম রয়েছে। গ্রামবাসী প্রশাসনের নিকট দাবি করেন নরোত্তম বিশসের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

বিনা টাকায় জমি ক্রয়ের কথা জানতে চাইলে স্বপন বিশস প্রথমে বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে এড়য়ে যান। এবং এক পর্যায়ে তিনি বলেন, নরোত্তম মন্ডল বুদ্ধি প্রতিবন্ধি তার দেখার মতো কেউ নেই। আমিই তাদের দেখাশোনা করি। তার জমি এই গ্রামের মনজের নামে এক ব্যক্তি চাষ করতো। সে তার জমিগুলো নিয়ে নিতে পারে এজন্য নরোত্তম মন্ডলের জমিগুলো তার স্ত্রী এবং ভারতে থাকা মেয়েদের সম্মতিতে নরোত্তমের বাড়িতে দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক নাসির চৌধুরীসহ অফিসের লোক এনে আমার নিজের নামে দলিল করে নিয়েছি। তা নাহলে তার জমিগুলো মানুষে দখল করে নিতো। এবং এই জমির মধ্যে ৩৪ শতক জমি বিক্রয় করে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে বসবাসের জন্য একটি বাড়ি করে দিয়েছি। তাদের সমস্থ খরচ আমি চালাই। এটা আপনারা নরোত্তমের স্ত্রীর নিকট শুনে দেখেন। এ সময় নরোত্তমের স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। জমি আবার ফেরত দিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনারা নরোত্তমের স্ত্রীর সাথে কথা বলেন সব জানতে পারবেন। আমি তাদের আমানত রক্ষা করার জন্য আমার নিজের নামে করে নিয়েছি। তাদের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো, তারা কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্থ হোক এটা আমি চাইনা।

কালীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক নাসির চৌধুরী বলেন, আমি বাড়ির গিয়েছি তবে একা নয়, আমার সাথে অফিসের লোক ছিল। কমিশন করে জমি রেজিষ্ট্রি করা। ব্যাংকে টাকা জমার চালান কপি, পে-অর্ডারসহ দলিল সাবমিট করার পর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে তাদের সাথে আমি গিয়েছিলাম। এটা বিধি মোতাবেক হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মাহমুদা খাতুন শিরিন জানান, বাড়ির উপর গিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি হয় তবে সেটা কমিশনে হয়। সে ক্ষেত্রে আগে ব্যাংকে চালান জমা দিয়ে চালানের কপি, পে-অর্ডার সহ দলিল অফিসে সাবমিট করতে হয়। এরপর অফিস থেকে যাকে পাঠানো হবে তার মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করা যায়। কিন্তু অফিসের লোক বাদে এভাবে বাড়ির উপর গিয়ে রেজিষ্ট্রি করার নিয়ম নেই। এভাবে যদি শুধু দলিল লেখক গিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করার কথা বলে তাহলে সেটা ভূয়া দলিল হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..