কালকিনিতে ২৫২ শিক্ষার্থীর জন্য দুইজন শিক্ষক

মো. আমির সোহেল, কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ৫৯নং রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজে কলমে ৫জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাবেয়া খানম নামে একজন শিক্ষিকা গত চার মাস আগে বদলি হয়েছে। বাকি চার জনের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মো. নজরুল ইসলাম অফিসিয়াল কাজে বেশিরভাগ সময়েই থাকেন উপজেলা সদরে। তার মধ্যে দুইজন আবার গত জানুয়ারী ২০১৭ থেকে পিটিআইতে। এখন মাত্র দুইজন শিক্ষকের সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের ২৫২ শিক্ষার্থীকে। বিদ্যালয়ের ছয়টি ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে একের পর এক শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। যারা রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষকের পদ রয়েছে। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। অন্যজন সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল। কাগজে-কলমে ৫জন শিক্ষক থাকলেও কখনও উপস্থিত ছিলেন না।

অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের অভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অনেকেই নিয়মিত স্কুলে আসছে না। ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঝরেও গেছে। আশপাশে অন্য কোনো স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই ছেলেমেয়েকে পাঠাতে হচ্ছে তাদের। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী জানায়, বিদ্যালয়ে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। শিক্ষক ক্লাসে পড়া দিয়ে পাশের ক্লাসে গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়ে যায়। এমন পরিবেশে লেখাপড়া করতে ভালো লাগে না।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম স্যার বলেন, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। একাধিকবার বিষয়টি শিক্ষা অফিসে জানিয়েও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই এলাকার শিশুরা ধাক্কা খাচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল বলেন, দু’জন শিক্ষককে পাঁচজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে সমস্যা হওয়ারই কথা। শিক্ষকের অভাবে ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা তাদের ঠিকমতো সার্ভিস দিতে পারছি না। এতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলেও আমরা আন্তরিকভাবে পাঠদান করে যাচ্ছি।

প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, আমি ১০বছর ধরে একানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। উপজেলা সদরে বাসা হওয়ায় দীর্ঘ সাত-আট কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন পাঠদান ও অফিসিয়াল কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনিও বাধ্য হয়ে অন্যত্র বদলির চেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে উপজেলার বেশ কয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দুরীকরণের জন্য পুলিং ভিত্তিক শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঐ বিদ্যলয়ের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।