অর্থনৈতিক ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বহুজাতিক কোম্পানিসহ আন্তজার্তিক পর্যায়ে লেনদেন রয়েছে এমন করদাতার তথ্য যাচাইয়ে নেমেছে।
ইতিমধ্যে এনবিআর থেকে সারাদেশের কর অঞ্চলগুলোকে লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের স্টেটমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজিকশন কপি এনবিআরে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে অস্বাভাবিকহারে মুদ্রা পাচারের অভিযোগে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে এনবিআরের একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে জানিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তজার্তিক লেনদেন রয়েছে এ ধরনের বহুজাতিক কোম্পানি ও ব্যক্তি করদাতাদের তথ্য নিখুতভাবে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের আন্তজার্তিক লেনদেনের চিত্র অথ্যাৎ স্টেটমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন এনবিআরে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল স্টেটমেন্ট, ব্যাংক হিসাবসহ যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাচাই করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তজার্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচারের ভয়াবহ তথ্য দেয়। সংস্থাটি গত এক দশকে মুদ্রা পাচারের সমীক্ষা প্রকাশ করে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গত এক দশকে প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যা দিয়ে দুবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে পারতো বাংলাদেশ। আর মুদ্রা পাচারে বিশ্বের ১৪৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৬ নম্বরে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মুদ্রা পাচার হয়েছে ২০১৩ সালে। এ বছর প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রায় এক তৃতীয়াংশের সমান। অধিকাংশ অর্থই কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভিনদেশে পাচার হয়ে থাকে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। জিএফআই`র প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. দেব কর ও কনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্পানজার এ সমীক্ষাপত্র তৈরি করেন।
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, জিএফআই’র প্রতিবেদনের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে এনবিআর। এজন্য আন্তজার্তিক লেনদেন রয়েছে এমন করদাতাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে এনবিআরের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলও এ বিষয়ে নজরদারি করবে।


