এ বছর এখন পর্যন্ত ইলিশ রফতানি হয়েছে এক হাজার ৩৫২ টন। আর আয় হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ রফতানি এ বছরই বেশি হয়েছে, ভারতে ইলিশ রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে দেশ। তবে দেশের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইলিশ রফতানি বাড়ানো ঠিক হবে না।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৩৮ জেলায় ইলিশ ধরা, মজুত, বেচাকেনা ও পরিবহন বন্ধ থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানামুখী অভিযান পরিচালিত হবে।
এ বছর ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ভিজিএফের চালের পরিমাণ ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২৫ কেজি করা হয়েছে। ১৫৫টি উপজেলায় পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৭ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৮৭২ টন খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা যাতে নদীতে মাছ শিকার করতে না পারে সে জন্য নদী বা সাগরে অভিযান পরিচালিত হবে। ২০০৩-০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মৎস্য ভবনে অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২২ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য আহরণও এ সময় নিষিদ্ধ থাকবে। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে এ সময় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
প্রতি বছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে ইলিশের ডিম ছাড়ার আসল সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মেঘনা নদীতে ছুটে আসে। এই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীকে মৎস্য আইনে সাজা দেয়া হবে।





