‘ই-কমার্সের ডাক’ স্লোগানে বিভাগীয় শহরে আয়োজিত ই-কমার্স মেলার উদ্বোধন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর জিপিওতে অবস্থিত ডাক ভবনে কেক কেটে ই-কমার্স মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল, ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাহিদল হক উপস্থিত ছিলেন। মেলায় পার্টনার হিসেবে রয়েছে এটুআই ও তথ্য আপা।
এছাড়াও মেলা আয়োজনে সহযোগিতায় করছে, চালডাল, রকমারি, এসএসএলকমার্জ ও কমম্পিটার জগৎ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ই-ক্যাব ও ডাক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আগামী ৩০ মার্চ থেকে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের পোস্ট অফিস প্রাঙ্গণে পর্যায়ক্রমে ই-কমার্স মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আগামী ৩০ মার্চ চট্টগ্রামে, ৬ এপ্রিল রাজশাহীতে, ১৩ এপ্রিল সিলেটে, ২০ এপ্রিল খুলনায়, ২৭ এপ্রিল রংপুরে, ৪ মে বরিশালে, ১১ মে ময়মনসিংহে এবং ১৮ মে ঢাকায় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলা উপলক্ষে পণ্য ও সেবা প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মেলার উদ্বোধনী বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, আঁতুর ঘরেই মৃত্যু মুখে পড়েছিল দেশের ই-কমার্স খাত। আজ থেকে আড়াই বছর আগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সেই অবস্থা থেকে ডিজিটাল কমার্স খাতটিকে আজকের এই সুসংহত অবস্থানে নিয়ে এসেছে ই-ক্যাব।
তিনি বলেন, গলির দোকান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার না করলে আগামী পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এটাই বাস্তবতা। সেকারণে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তর শুরু হয়েছে। আর দোকানে না গিয়ে, পণ্য হাতে না নিয়ে কেনাকাটার যে রূপান্তর বিশ্বজুড়ে চলছে, ই-ক্যাব সেই রূপান্তরের দিকেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, একসময় ভাবা হতো, আলসেমী ও বিলাসী করেই হয়তো শহরের মানুষ ই-কমার্স ব্যবহার করবে। কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরঞ্চ ডাক বিভাগের নেটওয়ার্ককে ই-কমার্স খাতের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রামের মানুষের কাছে অনলাইন কেনাকাটার আগ্রহ বেড়েছে। ডাক বিভাগের পার্সেল ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর দেশের ই-কমার্স ব্যবসায়কে আরো দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ডাক বিভাগের যে নেটওয়ার্ক আছে তা কাজে লাগাতে পারলে আগামী ১০ বছরেও প্রতিষ্ঠানটিকে কেউ পেছনে ফেলতে পারবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটি লাভবান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে বলে মন্তব্য করেন মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেন, অচিরেই ডাকঘরকে ডিজিটাল ডাকঘর হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ই-কমার্স বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তারপরও আমরা ই-পোস্ট সেবা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি পণ্য ডেলিভারি দিতে সফল হয়েছি। একটি পণ্যও খোয়া যায়নি। সুন্দরবন, এসএ পরিবহনের মতো বড় বড় কুরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ দিয়ে এখন আমরা দারাজ, আজকের ডিলের মতো বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে সফল ভাবে সেবা দিচ্ছি। দুশ’র বেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এখন আমাদের সেবা নিচ্ছে।
ই ক্যাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-কমার্স সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে আমরা দেশজুড়ে বিভাগ ভিত্তিক ই-কমার্স মেলার আয়োজন করেছি। ই-কামার্স সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে পোস্ট অফিসে নেটওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরের পোস্ট অফিসে এই মেলার আয়োজন করছি।
তিনি বলেন, দেশজুড়েই রয়েছে পোস্ট অফিসের শক্ত অবকাঠামো। এই অবকাঠামোতে ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করে সক্রিয় করার মাধ্যমেই আমরা ই-কমার্স সেবাকে খুব দ্রুত দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, আগামীতে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই দেশে ই- কমার্স ব্যবসার বিপ্লব ঘটবে।
তমাল বলেন, ৯০০ এর ই-কমার্স এবং এবং ৫০ হাজারের বেশি এফ-কমার্স ব্যবসায়ী ই-ক্যাবের সদস্য। তাদের নিয়েই আমরা দেশের সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। ই-কমার্স মেলা এর একটি। এই মেলার মাধ্যমে আমরা উদ্যোক্তা ও ভোক্তার মধ্যে যেমন সেতুবন্ধন তৈরি করছি। তেমনি ই-কমার্স সেবার পেছনের করিগর, পণ্য পরিবহনকারী ই-পোস্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এসএসএল কমার্জ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানকে একই প্লাটফর্মে সংযুক্ত।