স্পিকারের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্পিকারের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্পিকারের সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সুইডেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সুইডেনের পার্লামেন্ট এককক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে জনগণের ভোটাধিকার সীমিত করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। দেশের মানুষ নিজেদের পছন্দের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে। ভোটারদের এই গণতান্ত্রিক অধিকার সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বৈঠকে দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পিকারকে জানান। তিনি বলেন, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে। জনগণের সরাসরি ভোটে সদস্যরা চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

তিনি আরও জানান, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা মূলত পার্লামেন্ট ও সরকারের হাতে পরিচালিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও ককাস গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় স্পিকার চলমান সংবিধান সংস্কার কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলে মজুত তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিগুলোকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে সুইডিশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।