মেলা উপলক্ষে অবৈধভাবে মহাসড়কের পাশে দোকান উত্তোলনের অভিযোগ

মেলা উপলক্ষে অবৈধভাবে মহাসড়কের পাশে দোকান উত্তোলনের অভিযোগ
মহাসড়কের পাশে দোকান

মাদারীপুরের কালকিনিতে কালীপূজা কে কেন্দ্র করে প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন কুন্ড বাড়ি মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অনুমতি সাপেক্ষে তিন থেকে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এ বছর এখনো পর্যন্ত কোনো মেলা আয়োজনের অনুমতি প্রদান না করা হলেও একটি মহল মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালকিনি পৌরসভাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুয়ালি মাদারীপুর এবং দক্ষিণ গোপালপুর এলাকায় প্রায় দুইশত বছর পূর্বের কুন্ডুবাড়ি মেলা উপলক্ষে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে বাঁশ খুঁটি গেরে মেলার দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য যে, এই সব দোকানঘর থেকে উচ্চ হারে চাঁদা তুলে দোকান বরাদ্দ দিয়ে থাকে একটি মহল।
এই মহলের সাথে আবার সখ্যতা রয়েছে এলাকার প্রভাবশালী মহলের, এতে করে মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদার মহোৎসবে পরিণত হয়। যা কিনা এই মেলার ঐতিহ্যকে বিলীনের এর পথে নিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, ১৫-২০ বছর পূর্বেও কুন্ডুবাড়ি মেলা কে কেন্দ্র করে কোন চাঁদার প্রচলন ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে দিনকে দিন এই চাঁদার প্রচলন হয়ে আসছে।

এতে করে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা তার জৌলুস হারিয়ে ফেলছে। আমরা এলাকাবাসী জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই চাঁদার প্রচলন থেকে মেলাকে রক্ষা করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে করে স্বার্থান্বেষী মহল মেলা কে কেন্দ্র করে কোন চাঁদা আদায় না করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হোক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটির কয়েক জন সদস্য বলেন, মেলা কে কেন্দ্র করে এই চাঁদা প্রথার প্রচলনের পর মেলার মধ্যে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিগত দিনে খুনের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। আমরা অসহায় নিরুপায় তাইতো কিছু করতে পারি না। প্রশাসন চাইলেই এর থেকে উত্তরণ সম্ভব।

এ ব্যাপারে ইজারাদার আকবার সরদার বলেন, আমরা যেসব স্থাপনা তৈরি করেছিলাম মহাসড়ের পাশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের কথায় তা ভেঙে ফেলেছি। এ সময় ইজারাদারের কথার সত্যতা যাচাই করার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, তিনি যে সকল স্থাপনা তৈরি করেছিলেন তার মূল কাঠামো সেভাবেই আছে।

এ ব্যাপারে জানতে কালকিনি পৌরসভার প্রশাসক ও কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাসের কাছে গেলে তিনি বলেন, মেলার স্থানের ইজারা দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত মেলা আয়োজনের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি ইজারাদার কে ডেকে যে সমস্ত স্থাপনা তৈরি করেছে তা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

মাদারীপুর প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।