সানায় ‘বিকল্প মক্কা’ নির্মাণের দাবি, ফিরছে আবরাহার ইতিহাসের প্রসঙ্গ

সানায় ‘বিকল্প মক্কা’ নির্মাণের দাবি, ফিরছে আবরাহার ইতিহাসের প্রসঙ্গ
সানায় ‘বিকল্প মক্কা

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় মক্কা শরিফের আদলে একটি স্থাপনা নির্মাণের দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শিয়া-প্রধান হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এমন স্থাপনা নির্মাণ ও সেখানে নামাজ আদায়ের কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি মক্কার বিকল্প কোনো ধর্মীয় কেন্দ্র তৈরির প্রচেষ্টা?

তবে সানায় নির্মিত স্থাপনাটি হজ পালনের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ইসলামের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী হজের আনুষ্ঠানিকতা সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কাবা শরিফকে কেন্দ্র করেই পালিত হয়।

সানার এই স্থাপনা নিয়ে আলোচনায় ইতিহাসের একটি পুরনো অধ্যায়ও সামনে এসেছে—ইয়েমেনের শাসক আবরাহার কাহিনি।

আবরাহার ‘বিকল্প কাবা’ নির্মাণের ঐতিহাসিক কাহিনি

ইসলাম-পূর্ব আরবের ইতিহাস ও ইসলামী ঐতিহ্যে বর্ণিত কাহিনি অনুযায়ী, ইয়েমেনের শাসক আবরাহা সানায় একটি জাঁকজমকপূর্ণ উপাসনালয় নির্মাণ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল আরবের মানুষকে মক্কার পরিবর্তে সেই স্থাপনার দিকে আকৃষ্ট করা—এমন বর্ণনা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সূত্রে পাওয়া যায়।

পরবর্তী সময়ে মক্কার কাবাকে কেন্দ্র করে আবরাহার সঙ্গে সংঘাতের একটি কাহিনি ইসলামী ঐতিহ্যে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। কোরআনের সূরা আল-ফিলে আবরাহার বাহিনীর মক্কা অভিযানের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে পাখির ঝাঁক কর্তৃক পাথর নিক্ষেপ এবং আবরাহার বাহিনীর পরাজয়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইসলামী ইতিহাসে ‘হাতির বছর’-এর কাহিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেন আবরাহার প্রসঙ্গ?

সানায় মক্কার স্থাপত্যের আদলে কোনো স্থাপনা নির্মাণের দাবি সামনে আসার পরই অনেকের মনে আবরাহার সেই ঐতিহাসিক কাহিনির সঙ্গে তুলনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এবং হুতি আন্দোলনের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘ সংঘাত এই আলোচনাকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

হুতিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতের সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পর ইয়েমেন-সৌদি সংঘাত শুধু রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গেও তা নানা আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।

হজ কি সানা শহরে স্থানান্তরিত হচ্ছে?

সানায় কোনো স্থাপনা নির্মাণের খবরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রশ্ন উঠলেও, হজ সৌদি আরব থেকে ইয়েমেনে স্থানান্তরিত হচ্ছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত তথ্য নেই।

হজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত এবং এর মূল আনুষ্ঠানিকতা মক্কার কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। ফলে সানায় কোনো স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা থাকলেও সেটিকে সরাসরি ‘নতুন মক্কা’ বা হজের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

ইতিহাসের আবরাহা ও বর্তমান ইয়েমেনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তুলনা তাই মূলত একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। প্রায় দেড় হাজার বছর আগের ধর্মীয়-ঐতিহাসিক কাহিনির সঙ্গে বর্তমান ঘটনাকে এক করে দেখার ক্ষেত্রেও তথ্য যাচাই জরুরি।

সানায় কথিত এই স্থাপনা শেষ পর্যন্ত কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ধারণা তৈরির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।