জনস্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ এলজিআরডি মন্ত্রীর

জনস্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ এলজিআরডি মন্ত্রীর
জনস্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ এলজিআরডি মন্ত্রীর

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সর্বাধিকসংখ্যক মানুষ প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আজ সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য তিনি জাইকাকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং বিদ্যমান সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ পরিবহনসেবার সুবিধা পেতেন। একইভাবে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আরও সতর্ক হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে কাজ চলছে। এসব খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ।

এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট (ইউডিসিজিপি) এবং সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এসসিআরডিপি) অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-টু (ইউজিডিপি-টু) কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় জাইকা।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে জাইকার চলমান ও সম্পন্ন বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি এবং এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় এ কমিটি কাজ করবে।

বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।