প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তনে নতুন মনিটরিং নীতিমালা ও পরিমার্জিত কারিকুলাম আসছে – প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তনে নতুন মনিটরিং নীতিমালা ও পরিমার্জিত কারিকুলাম আসছে – প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম

প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিমার্জিত কারিকুলাম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি শিশু প্রকৃত অর্থে কতটুকু শিখছে, পাঠদানের মান কেমন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম কতটা কার্যকর, এসব বিষয় নতুন মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আরো নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। একইসাথে শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতাভিত্তিক, বিজ্ঞানসম্মত ও আনন্দময় শিখন নিশ্চিত করতে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ চলছে।

আজ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য, প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের প্রতি শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা, বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বদলে দিতে পারে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড ডে মিলের খাবার বিতরণ করেন এবং খাবার সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের মা সমিতির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।

শ্রেণিকক্ষের লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিদর্শন করে বুক ক্যাপ্টেনদের সাথে কথা বলেন। বিদ্যালয়ের বাগান কার্যক্রম এবং লিটল এগ্রিকালচারিস্ট ক্লাবের সদস্যদের সাথেও মতবিনিময় করেন। শিশুদের পাঠাভ্যাস, পুষ্টি, পরিবেশ সচেতনতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে এবং আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধবপুর উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) শতাধিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের চলমান কর্মসূচির সাথে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও পার্থক্য সরেজমিনে পর্যালোচনা করাই এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মাধবপুর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে  যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অর্থায়নে ম্যাকগভার্ন-ডোল ফুড ফর এডুকেশন কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচিতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), রুম টু রিড এবং সিএনআরএস অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখন চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি পরিমার্জিত ও উন্নত কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন কারিকুলামে বিদ্যালয়ভেদে শিখন ঘণ্টার বৈষম্য দূর করা, প্রতিটি বিষয়ের পাঠদান ও শিখন উপকরণকে আরো বিজ্ঞানসম্মত, সহজবোধ্য ও বয়সোপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অনুধাবন ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরো গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড এবং স্কুল ফিডিংবিষয়ক প্রোগ্রাম পলিসি অফিসার এমা লেফু উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।