মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নসহ যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তা মানুষের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে অসতর্কতা বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে নিজেদের বয়ানে বিকৃত করা হয়েছে, যা রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য ও তথ্য-গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য ও অর্থ সম্পাদক মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য ও কল্যাণ-সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য ও ত্রাণ-পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির এবং সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব বীর প্রতীক মিজানুর রহমান খানসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।





