জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কাজ করতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কাজ করতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত কাজ করতে হবে

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আবারও তাদের জনগণের কাছে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে জনগণকে যথাযথ সেবা দেওয়া এবং নিজেদের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে মডেল হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি—দুই পক্ষের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘরের ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ ও নির্ভরতা উভয়ই কমানো সম্ভব।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ূনঃ সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা ও কর্মদক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকার মতো বিবেচনা করে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্য এক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব পরিবার ও কৃষকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সার ডিলারদের তালিকা যাচাই-বাছাই শেষ করে দ্রুত লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ছোট সড়ক নির্মাণে ইটের পরিবর্তে সিসি ও ইউনি ব্লক ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হাটবাজার ও বন্দর এলাকার সড়কে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের পাশে পুকুর খননের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনাও দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্য প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্বশীল হতে হবে

মীর শাহে আলম জানান, ইজিবাইক নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জৈবসার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনেও উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানান।

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি কমাতে মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। প্রতি বছর ইউএনওদের সম্মেলন আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার প্রশাসকরাও সভায় অংশ নেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

পিআইডি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।