বর্ষা মৌসুমে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিচু জমি ও উন্মুক্ত জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় এসব জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা কম থাকায় জলাশয়ের পানিকে কাজে লাগিয়ে নেট ও বাঁশের বানা ব্যবহার করে আটকিয়ে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির কার্পজাতীয় মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষক ও মাছচাষিদের। পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন জলাশয়ের ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি হচ্ছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
সরেজমিনে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার বিভিন্ন নিচু ও এক ফসলি কৃষিজমি বছরের প্রায় চার মাস বর্ষার পানিতে ডুবে থাকে। এ সময় খাল-বিল, নিচু জমি ও উন্মুক্ত জলাশয়জুড়ে বিস্তীর্ণ জলাভূমির সৃষ্টি হয়। এসব জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক কৃষিকাজ ব্যাহত হয়।
এ অবস্থায় পানিতে ডুবে থাকা জমি ও জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মাছচাষিরা। জলাশয়ে মাছের পোনা ছেড়ে এবং সেগুলোকে নির্দিষ্ট এলাকায় আটকে রেখে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির কার্প মাছ চাষ করা হচ্ছে।
স্থানীয় মাছচাষি সজল সোম জানান, বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে থাকায় মাছ চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জলাশয়ে কার্পজাতীয় মাছের পোনা ছাড়া হয়। কয়েক মাস পরিচর্যার পর মাছ বড় হলে তা বাজারে বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যায়। এর ফলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানিতে ডুবে থাকা জমি থেকেও বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার দত্ত বলেন, বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকে। এসব উন্মুক্ত কৃষিজমি ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করলে কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্মুক্ত জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত মাছ চাষে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো হলে এ অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।





