চুয়েটে সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

চুয়েটে সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
চুয়েটে সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি শুধু তার ৫৬ দিনের দায়িত্ব পালনের ওপর ভিত্তি করে নয়। দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ, বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই তারা এ দাবি জানাচ্ছেন।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের কাছে সহজলভ্য প্রশাসক হিসেবে পরিচিত হন। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কারণে তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, ২০০৫ সালে চুয়েটে শিক্ষকতা শুরু করা অধ্যাপক সায়েম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন। নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চুয়েট শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সায়েমের নেওয়া ও পরিকল্পিত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন অফিস চালু, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানো, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা হাব ও স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সংযোগ তৈরির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, একজন উপাচার্যের পূর্ণ মেয়াদ মূল্যায়নের জন্য ৫৬ দিন যথেষ্ট নয়। তবে শিক্ষার্থীদের কথা শোনা, সংকটের সময়ে পাশে থাকা এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা বোঝার ক্ষেত্রে এই সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন শুধু ৫৬ দিনের একজন উপাচার্যকে ঘিরে নয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে আস্থা তৈরি হয়েছে এবং যে উদ্যোগগুলো শুরু হয়েছে, সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ব্যক্তিগত বা একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা ছাড়াই অধ্যাপক সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই তাদের আন্দোলন বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থী অরিন্দম দে বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে পরিবর্তনের কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অরিন্দম দে জানান, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে গণঅবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় দ্বন্দ্বের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত শাটডাউন, গণঅবস্থান, গণস্বাক্ষরসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।