শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবায়নে পাশে থাকবে সরকার: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবায়নে পাশে থাকবে সরকার: ববি হাজ্জাজ
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবায়নে পাশে থাকবে সরকার: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ধারণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সমস্যার কার্যকর ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘গভর্নেন্স সলিউশনস কম্পিটিশন’-এর বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও নতুন ধারণাকে শুধু স্থানীয় সমস্যা সমাধানেই নয়, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য বড় সমস্যার পাশাপাশি এমন বিষয় চিহ্নিত করতে হবে, যার বাস্তবসম্মত সমাধান শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রস্তাব করতে পারে।

তিনি বলেন, কোনো সমস্যা তুলে ধরার সময় সেটির ব্যাপ্তি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এবং সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের জরিপ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, সংবাদ প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য গবেষণা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুলও সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব।

সমাধান প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল আকর্ষণীয় ধারণা দিলেই হবে না, সেটি বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন, কারা যুক্ত থাকবেন এবং কী পরিমাণ জনবল, অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ লাগবে, সেসব বিষয়ও স্পষ্ট করতে হবে।

স্কুলের সামনে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকার খাল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো সমস্যার সমাধানে সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে। শুধু একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেই হবে না; জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, একটি উদ্যোগ টেকসই করতে এর আইনগত, প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের সংস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, এটি সাধারণ কোনো প্রতিযোগিতা নয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা ও প্রস্তাবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবে। নির্বাচিত তিনটি দল তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে। প্রস্তাবের বিষয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট হলে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগিতাও পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সংসদকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১২৪টি দলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল সেগুলো মূল্যায়ন করবেন। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা পাঁচটি দল জাতীয় পর্যায়ের দর্শক ও অতিথিদের সামনে ১৫ মিনিটের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত উপস্থাপনার ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচন করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ঢাকা-১৩-এর শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চান তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও শক্তিকে কাজে লাগানো গেলে তাদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তনের সূচনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

কর্মশালায় প্রতিযোগিতার বিচারক ও আয়োজক দলের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।