শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী

শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি—এমন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানকে কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে এ কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলের উন্নয়নে সরকার কাজ করবে। কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান বাড়ানো যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি থাকা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এগুলো একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ উদ্যোগের কারণে শিক্ষকদের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হবে। এর মাধ্যমে মূল্যায়নে কোনো শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, গত এসএসসি পরীক্ষায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন।

এ ছাড়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। কত দিনের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হবে, তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ৯ সেপ্টেম্বর ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।