পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরী কোনো নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনার বিরুদ্ধে কোনো হুমকি তৈরি হলে বাংলাদেশ নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। পবিত্র দুই নগরীর সুরক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) আয়োজনে ‘ফরেন পলিসি অব বাংলাদেশ: নেভিগেটিং পাথওয়েজ ইন আ শিফটিং ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবকে সহায়তা করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র এই দুই নগরী বিশ্বের মুসলমানদের কাছে গভীর ধর্মীয় ও আবেগীয় তাৎপর্য বহন করে। মুসলমানদের কাছে মক্কা ও মদিনা শুধু কূটনৈতিক বিবেচনার বিষয় নয়, ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের উদ্বেগের অংশীদার।
তবে প্রস্তাবিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি বলে স্পষ্ট করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এখনো মক্কা প্যাক্টে যোগ না দেওয়ায় এর অধীনে সেনা পাঠানোর প্রশ্ন আপাতত নেই।
সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
শামা ওবায়েদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সহিংসতা বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিআইআইএসএস আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে আয়েশা বিনতে তৌহিদ, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে ড. মাহফুজ কবির, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে এ এস এম তারেক হাসান সেমুল এবং পররাষ্ট্রনীতিতে আদর্শিক স্বার্থ নিয়ে ড. সুফিয়া খানম বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান। তিনি সেমিনারে সভাপতিত্বও করেন।





