× Banner
সর্বশেষ
জনগণের আস্থা ছাড়া রাজনীতি টেকসই নয়: তথ্যমন্ত্রী ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে জনসেবার মানোন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে গুরুত্ব এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করবে সরকার জাপানের সহযোগিতায় ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় স্বচ্ছ কার্বন মার্কেট গঠনের আহ্বান দেশে টেক্সটাইল ও পাট খাতে বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভোটার তালিকার অপেক্ষায় ইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন – সিইসি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট খারিজ

বনের ভয়ঙ্কর প্রাণীদের সঙ্গে সুখের সংসার “আনন্দম”র আমতে পরিবারের

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

প্রতিবেশী ডেস্কঃ নাগপুর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রে এক প্রত্যন্ত গ্রাম, নাম হেমলকাসা৷ এই ছোট্ট গ্রামেই রয়েছে এক যৌথ পরিবার৷ যার আকার বেশ বড়ই৷ এতোটাই বড় যে সেখানে থাকে ৯০জন সদস্য৷ তবে এই সংখ্যা কিন্তু থেমে থাকার নয়৷ বাচ্চাদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে৷ কিন্তু এই বৃহৎ পরিবারের সদস্য কারা জানেন? মাথাতেই বা কে রয়েছেন? এত্ত বড় পরিবারকে কারা সামলাচ্ছেন? কারা রয়েছেন ভরণপোষণের দায়িত্বে? প্রশ্ন গুচ্ছ৷ আর উত্তরের নাম? – ডঃ প্রকাশ এবং মন্দাকিনী আমতে৷

ডঃ প্রকাশ এবং মন্দাকিনী আমতে৷ ৫০ একর জমিতেই গড়ে উঠেছে আমতেজ অ্যানিমেল আর্ক৷ এই আর্ক হল গত ৪৫বছরে পশু পাখিদের স্থায়ী আস্তানা৷ ময়ূর, হরিণ, বাঘ, ভাল্লুক, কুমীর, হায়না কাকে চাই আপনার? ভয়ঙ্কর ভাল্লুক, হায়না যাকে দেখলে রক্ত জল হয়ে যাবে যে কোনও মানুষের, সেখানে আমতে পরিবার তার সঙ্গে খেলায় মত্ত৷ গৃহপালিত প্রাণীদের পাশাপাশি আমতে পরিবারের ভালোবাসা এবং স্নেহে বন্য পশুরাও যেন হয়ে উঠেছে এখানে বাড়িরই সদস্য, যেখানে প্রত্যেকেই সমান গুরুত্বপূর্ণ৷

আর সাপ? এ যেন জঙ্গল বুকের থ্রি-ডি ভার্সন৷ তবে বাস্তবে, একেবারে চোখের সামনে, জলজ্যান্ত৷ লম্বা, ছোট, মোটা, রোগা কত কিই না বাহার তাদের৷ কিন্তু কারও সঙ্গে কারও ঝগড়াঝাটি নেই এতটুকু৷ ফণা তুললেও, তার পিছনে এতটুকুও রাগ নেই৷ কারণ তারা যে ডঃ আমতের মন্ত্রে দীক্ষিত৷

কিন্তু এমন একটি মহৎ উদ্যোগ নেওয়ার পিছনে কোন তাগিদ ছিল?
প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটু যেতে হবে অতীতে৷ আসলে ডঃ প্রকাশ আমতের বাবা ছিলেন একজন সমাজসেবী, আর তার ইচ্ছা ছিল এই গ্রামের জন্য কিছু করে যাওয়ার৷ যে দরিদ্ররা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত তাঁদের জন্য বাবা আমতে এবং তাঁর স্ত্রী সাধনা আমতে নিরন্তর সাহায্য করে গিয়েছেন৷ ১৯৫০-এ তাদের জন্য আনন্দন নামে একটি অরগানাইজেশন-ও খোলেন৷ পদ্ম বিভূষণ, গান্ধী পিস প্রাইজ, রামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড, টেম্পলটন প্রাইজ, জামনালাল বাজাজ অ্যাওয়ার্ড এমনই বহু পুরস্কার, বহু সম্মানে সম্মানিত হন তিনি৷ আর তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরীরূপে নিজেকে প্রমাণ করেন তাঁর ছেলে ডঃ প্রকাশ৷ পাশে পান তাঁর সহধর্মিনী মন্দাকিনী আমতে-কে৷

বাবা আমতে গ্রামের মানুষদের পাশেই সর্বদা থাকতে চেয়েছিলেন৷ চেয়েছিলেন তাঁদের জন্যই কাজ করে যেতে৷ সেই ইচ্ছে পরবর্তীকালেও মূর্ত রূপ পায় ডঃ প্রকাশ আমতের উদ্যোগে৷ তবে এই ধরনের উদ্যোগের পিছনেও রয়েছে আরও একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা৷ শোনা যায়, একদিন জঙ্গলের মধ্যে ডঃ প্রকাশ এবং তাঁর স্ত্রী যাচ্ছিলেন, তাঁরা হঠাৎ দেখেন, একদল মানুষ কিছু বাঁদরকে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে৷ তখন তাঁরা হতচকিত হয়ে যান৷ তাঁরা ওই দলটিকে গিয়ে বলেন, যদি বাঁদরগুলোকে নাম মেরে তাঁদের দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে গ্রামবাসীদের সাহায্য করবেন এই দম্পতি৷ সেদিন থেকেই তাঁরা ঠিক করে নেন বাকি জীবনটা এই হেমলকাসা গ্রামেই কাটাবেন৷

এখন শুধু এই দম্পতিই নন, তাঁদের পরবর্তী দুই প্রজন্মও এই ভালোবাসার ভাষাতেই বিশ্বাসী৷ আপনিও শিখবেন নাকি?


এ ক্যটাগরির আরো খবর..