× Banner
সর্বশেষ
দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ পর্যায়ে – বাণিজ্যমন্ত্রী আগামী বিশ্বকাপে বিজ্ঞাপন থেকে বড় মুনাফার লক্ষ্য সরকারের: তথ্যমন্ত্রী কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অ্যাগ্রো বিজনেসে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলেন পর্যটনমন্ত্রী বাংলাদেশকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সরকারের: প্রযুক্তিমন্ত্রী আবহাওয়ার সতর্কবার্তাবঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ২৭ জুলাই থেকে শুরু ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

ধর্মের বিভেদ নয় মনুষ্যত্ববোধে এক হোক সকল মানুষ

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আজ ২রা সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ, ১০ জেলহজ্জ্ব ১৪৩৮ হিজরী শনিবার সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠির অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল- আযহা। ঈদুল আযহা হজরত ইব্রাহিম (আ:) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)-এর সাথে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ:) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা।

তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে সাথে সাথে পুত্র ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি করার নির্দেশ আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিম (আ:)-এর সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। শরিয়তে সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করার পর আনন্দ থেকেই পালিত হয় ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ।

তাই মুসলমান ধর্মালম্বীরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানী দিয়ে মাংস বিতরন করে অবশিষ্টাংশ ভক্ষণ করে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পারা-প্রতিবেশীদের সাথে আনন্দ উপভোগ করে।

অন্য দিকে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মের অনুসারীদের শ্রীশ্রীহরির পার্শ্বপরিবর্তনের দিন পার্শ্বৈকাদশী ব্রতের উপবাস পালন এই একই দিনে। সেই সনাতন ধর্মালম্বীরা আজ পরমপুরুষের সেবা, পূজা, কীর্তন, সাধন-ভজনের মধ্য দিয়ে পালন করছেন এ দিনটি।

তাই একদিকে আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্য পশু কোরবানি দিয়ে মাংস ভোজ। অন্য দিকে সনাতন ধর্মালম্বীদের পঞ্চশস্য(ধান জাতীয় খাদ্যঃ ভাত,খিচুড়ি,মুড়ি, চিঁড়া, খই, সুজি, চালের গুঁড়া, চালের পিঠা, পায়েস। গম জাতীয় খাদ্যঃ আটা, ময়দা, সুজি, রুটি, বিস্কুট, কেক,নুডলস।  যব বা ভুট্টা জাতীয় খাদ্যঃ ছাতু, খই, রুটি। ডাল জাতীয় খাদ্যঃ মুগ, মশুর, মটর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, বরবটি, শিম, বুট।  সরিষা, তিলের তেল, সয়াবিন) আহার বর্জন।  তথাপি কোথাও যেন অন্য রকম পরিবেশ। কোথাও নেই কোন দ্বন্দ, বিভেদ, হিংসা।

প্রাণে প্রাণে বাজছে মিলন সুর। এই সুর উৎসবের, এই সুর আনন্দের, এই সুর ভ্রাতৃত্বের, সৌহার্দের, সম্প্রীতির। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে ঈদের নামাজ আদায় করবে আর সনাতন ধর্মালম্বীরা নিরাহারী থেকে সাধন, ভজন, কীর্তন ও সেবার মধ্য আনন্দে এ দিনটি উদযাপিত করছে।

ঈদ একটি উপলক্ষ মাত্র, একটি দিনের সম্প্রীতির নজিরও বলা চলে। এখন প্রত্যাশা হলো এই নজিরকে প্রত্যক্ষ করেই সম্প্রীতির বিস্তৃতি ঘটুক। শুধু ঈদের দিন নয়, সারা বছরই লেগে থাকুক আনন্দ মনে মনে।

কেবল পশু কোরবানি নয় কোরবানি হোক মানুষের অন্তরে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বসতকরা পশুত্বের। স্রষ্টা পশুর রক্তমাংস পছন্দ করেন না। তিনি পছন্দ করেন নিষ্কলুষ, পশুত্বহীন, নিরহংকারী মানুষ। সভ্য সমাজেরও চাওয়া তাই।

ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হোক। ভ্রাতৃত্ব-প্রেম-মমতা ছড়িয়ে পড়ুক। শোষণ-বঞ্চনাহীন, বৈষম্যহীন সমতার সমাজ বিনির্মিত হোক। দূর হোক অন্ধকার। উগ্রতা-জঙ্গিবাদিতা নিপাত যাক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, স্বস্তি নেমে আসুক মানুষের প্রাণে।

এই হোক আমাদের আজকের দিনের অঙ্গীকার।

প্রমিথিয়াস চৌধুরী

সম্পাদক ও প্রকাশক, দি নিউজ ডটকম

পরিচালক, আনন্দম ইনস্টিটিঊট অব ইয়োগা এন্ড আয়ুর্বেদ(প্রস্তাবিত)


এ ক্যটাগরির আরো খবর..