চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, চিড়িয়াখানাটি শুধু বিনোদনের স্থান হিসেবে নয়, প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হবে।
আজ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম-বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা-যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী, তাদের জীবনযাপন, বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই চিড়িয়াখানাকে নতুনভাবে সাজানো হবে।’
তিনি বলেন, আধুনিক চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্য কেবল প্রাণী প্রদর্শন নয়; বরং প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদনের সমন্বিত পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত ব্যবস্থাপনা, দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত করা হবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের অন্য চিড়িয়াখানাগুলোকে কিভাবে আরো আধুনিকায়ন করা যায় এবং দর্শনার্থীদের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে কিভাবে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
দেশের চিড়িয়াখানাগুলোকে শুধু বিনোদনের স্থান নয়, শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসস্থল নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে এমন একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করতে চাই, যেখানে পরিবার নিয়ে মানুষ আনন্দঘন সময় কাটাতে পারবেন। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্ম দেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।