× Banner
সর্বশেষ
দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার – আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভূমিকম্প বিষয়ক প্রস্তুতি সভা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা তাহসিনের সাক্ষাৎ ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের টাকা জনগণের, এক টাকার অপচয়ও সহ্য করা হবে না: তথ্যমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগানো দালাল চক্র ও সিজার বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়া সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: মীর শাহে আলম বাঘ রক্ষা মানেই সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশ মন্ত্রী দেশেই উন্নত চিকিৎসায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন যশোর সিমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য আটক 

মধুখালী প্রতিনিধি

জমি ও জমির ফসল নিয়ে আপন ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ, আপন ভাইয়ের হাতে চাচাতো ভাই গুরুতর আহত

Dutta
হালনাগাদ: বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩
modhukhali

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে গয়েশপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিয়ামত মন্ডলের আপন ভাইয়ের হাতে এক যুবক গুরুতর আহত।

রোববার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার গয়েশ খেওয়াঘাট সংলগ্ন গয়েশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত হারুন মন্ডল(৫৫) পেশায় একজন দিনমুজুর।

বুধবার সংবাদ শুনে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে গয়েশপুর গ্রামের নিয়ামত মন্ডলের সঙ্গে তার আপন ভাই বক্কার মন্ডলের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার বিকালে গয়েশপুর গ্রামের গয়েশপুর মাঠের আমন ধান কাটা নিয়ে নিয়ামত মন্ডলের সঙ্গে বক্কার মন্ডলের মধ্যে বিরোধ চলছিল । সেই কাটা ধান নিয়ামত মন্ডলের চাচাতো ভাই হারুন মন্ডল বিরোধীয় জমির ধান কাটা নিয়ে বিরোধ মীমাংসা করে দিয়ে খেওয়াঘাট থেকে বাড়ী ফেরার পথে বক্কার মন্ডল ছেলে হাসিব মন্ডল এং বক্কার মন্ডল এর স্ত্রী পারভীন বেগম ধারালো কাচি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে । স্থানীয়রা ও চাচাতো ভাই এলেম মন্ডল (৬৫) হারুন মন্ডলকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমান চিকিৎসাধীন আছেন।

মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কবির সর্দার জানান, আহত হারুন মন্ডলের মাথায় ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। বর্তমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’ আহতের স্ত্রী আনজিরা বেগম বলেন, জমি বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামীর চাচাচো ভাই বক্কার মন্ডল ও নিয়ামত মন্ডলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আমার স্বামী হারুন মন্ডল হোসেন স্থানীয়ভাবে সালিশ করার পর সমাধান করে দিয়ে আসার পর বাড়ীতে আসার সময় ক্ষিপ্ত হয়ে গয়েশপুর খেওয়াঘাট থেকে একটু কিছু দুর এলে বক্কার মন্ডল, তার ছেলে হাসিব মন্ডল এবং তার স্ত্রী পারভীন বেগম ধারালো, কাচি , লাঠি ইত্যাদি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে এলোপাতারী ভাবে আঘাত করে। আমি আমার স্বামী আঘাতকারীদের সঠিক বিচারের আশায় মধুখালী থানা অভিযোগ দায়ের করেন বলে বাদী আনজিরা বেগমের মাধ্যমে জানা যায় । তাই তিনি হারুন মন্ডল সহ তিনজনকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আমার স্বামী হারুন মন্ডল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধুখালী হাসপাতালে রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ছরোয়ার ফকির জানান, যতটুকু জানি তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মূলত ওই ঘটনার জের ধরে বক্কারের জমির কাটা ধান এলেম ও নিয়ামত মন্ডল নিয়ে যাওয়ার কারনে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির সময় বক্কার ও বক্কারের ছেলে হাসিব মন্ডল এর মার ও পারভীন বেগমের হাতে কাচির এলোপাতারি কোপের আঘাতে হারুন মন্ডল গুরুতর আহত হয় । তিনি আরও বলেন, বক্কার মন্ডল আহত হারুন মন্ডলের গুজবে মৃতে্যু ও কানাগোষা কথা শুনে রাতের আধারে বক্কার তার গরু, বাচুর, এবং অন্যান্য জিনিষিপত্র বিক্রি করে বর্তমান বাড়ী ছেড়ে পলাতক অবস্থায় আছে বলে জানা যায় । এ প্রসঙ্গে নিয়ামত মন্ডল ও বক্কার মন্ডলের বড় আপন ভাই এলেম মন্ডল বলেন বক্কার ও বক্কারের ছেলে হাসিব মন্ডল এর হাতে লাঠি দিয়ে মার ও পারভীন বেগমের হাতে কাচির এলোপাতারি কোপের আঘাতে হারুন মন্ডল গুরুতর আহত হয় এবং আমি উদ্বার করে চিকিৎসার জন্য মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ামত মন্ডলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন বিগত ৪ বছর আগে নদীতে আমার ভাই বক্কার মন্ডলের বাড়ী নদী গর্ভে চলে গেলে আমি আমার ভাইয়ের বসবাসের কথা চিন্তা করে ঘর -বাড়ী করে থাকার জন্য ১০শতাংশ জমি ভাইয়ের নিকট বিক্রি করি। এরপর ভাই ঘরবাড়ী করে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার পর আমার জীবন সহ আমার পরিবারের জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়। বর্তমান আমি আমার ঘরবাড়ী ছেড়ে জীবনের ভয়ে মাগুরা জেলার কসুন্দি গ্রামে ঘরবাড়ী করে বসবাস করছি। তাছাড়া আমার কোন ছেলে সন্তান না থাকার কারনে শুধু মেয়ে থাকার কারনে আমার জীবনের হুমকি হয়ে দাড়িয়ে আছে বক্কার মন্ডল সহ ছেলে এবং স্ত্রীর জন্য । তাছাড়া তিনি আরও বলেন আমার ভাই ষড়যন্ত করে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমার জমির ফসল নিতে দেয় না, জমি লিজ দিতে দেয় না এবং জমি বিক্রিও করতে দেয়না । তাই আমি আমার জমি ও পরিবার নিয়ে অশান্তি ও বিপদে আছি। এ বিষয়ে মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন এই ঘটনাকে কেন্দ্রকে একটি মামলা হয়েছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..