× Banner
সর্বশেষ
নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আইওএমের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ ১৫ টাকা কেজিতে চাল পাচ্ছে ৫৫ লাখ পরিবার: খাদ্য মন্ত্রণালয় ডিএমপির অভিযানে ৪১৯ গ্রেপ্তার, ৭১ মামলা প্রথমবার এমপিও শিক্ষকদের বদলি শুরু দেশের ৫ জেলায় বন্যার ঝুঁকি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সতর্কবার্তা বেনাপোলে গণসংযোগে ইমদাদ, লক্ষ্য উন্নয়ন ও নিরাপদ ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর প্রথমবার সরাসরি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা: ৫ আগস্ট বক্তব্য দেওয়ার ঘোষণা “জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা দেশের মালিক নন, জনগণের সেবক” : ভূমি প্রতিমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা চিরস্মরণীয়: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ইসলামোফোবিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় রাজনীতি: একটি বিশ্লেষণ

শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধামের ইতি কথা

Ovi Pandey
হালনাগাদ: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০
বিষ্ণুপদ ধামের ইতিকথা

জগদীশ দাশ, মৌলভীবাজারঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীরদের নিকট অতি পবিত্র শ্রী শ্রী বিষ্ণু পদধাম। যেখানে ভগবান শ্রীবিষ্ণুপদচিহ্ন বিরাজিত আছে।
 ঠিকানা- শ্রী শ্রী বিষ্ণু পদধাম,সাং- তারাপাশা,থানা-রাজনগর, জেলা- মৌলভী বাজার শ্রীহট্ট/ সিলেট, বাংলাদেশ।
বিষ্ণুপদধামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে কয়েকজন সন্ন্যাসী পরশুরাম তীর্থে যাচ্ছিলেন। একদিন ক্লান্ত দেহে মনু গঙ্গায় স্নান করে তাঁরা যখন একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেলেন, সেই সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে একজন সন্ন্যাসী এই স্থানে শ্রীবিষ্ণুপদচিহ্ন বিরাজিত আছেন বলে স্বপ্নাদেশ পান এবং অদূরেই একটি পাথরে বিষ্ণুপদচিহ্ন মুদ্রিত আছে বলে নির্দেশ পান। এই সন্ন্যাসী মনু নদীর তীরবর্তী একটি স্থানে শাস্ত্রবর্ণিত বিষ্ণুপদচিহ্ন খুঁজে পান ।তখন তিনি পরশুরামতীর্থে যাওয়ার বাসনা ত্যাগ করে, বিষ্ণুপদচিহ্ন প্রতিষ্ঠা করে,নিত্য পূজার ব্যবস্থা করেন ।
তারাপাশা গ্ৰামটি পাঁচগাঁওয়ের জমিদার সর্বানন্দ দাসের জমিদারির অন্তর্ভুক্ত। তাই জমিদার বিষ্ণুপদচিহ্নযুক্ত কৃষ্ণপাথরটি নিজবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বহু শ্রমিকের সম্মিলিত চেষ্টায় প্রস্তরখন্ড সরানো সম্ভব হয়নি। জমিদার সর্বানন্দ দাস স্বয়ং এসে বিষ্ণুপদচিহ্ন দর্শন করেন এবং তারাপাশা গ্ৰামেই মন্দির নির্মাণ করে সেবা পূজার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করেন । শ্রীবিষ্ণুর সেবায়েত রুপে জমিদার ৭ কেদার ভূমি দান করে সমস্ত পূজার দায়দায়িত্ব গ্ৰহণ করায় সন্ন্যাসীরা চলে যান। তারপর থেকে পর্যায়ত্রুমে অনেক সেবায়েত নিযুক্ত করে দীর্ঘকাল যাবৎ সেবাকাজ চলতে থাকে ।
পরবর্তীকাল জমিদার কালীকিশোর দাশ মহাশয়ের সহযোগিতায় আব্দা নিবাসী পঞ্চরাম মিত্র ও কাজীরচক গ্ৰাম নিবাসী বলরাম দত্ত মহাশয়ের যৌথ চেষ্টায় বিষ্ণুপদ ধামে একটি ছোট মন্দির ও একটি নাটমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। খনন করা হয় একটি পুকুর ও।সেই সময় কৃষ্ণদাস নামে জনৈক সজ্জন সেবায়েত প্রতিষ্ঠানটিকে সকলের কাছে পরিচিত করানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কৃষ্ণ দাসের পর রাধারমণ বৈষ্ণব সেবায়েতের দায়িত্ব পালন করেন।
১৩৭৪ বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্ৰামী ও জননতা নিকুঞ্জবিহারী গোস্বামী বিষ্ণু পদধাম দর্শন করতে আসন। তারই অনুপ্রেরণায় স্থানীয় ভক্তজনদের নিয়ে ধামের উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলতে থাকে। স্থানীয়ভাবে পরিচালনা পরিষদ গঠিত হয়। আরম্ভ হয় উন্নয়নের অগ্ৰযাত্রা। ১৩৮৯ বাংলার ১৭ ফাল্গুন বিশ্ববরেণ্য বৈষ্ণবাচার্য ও দার্শনিক ড.মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজ গৌর পরিক্রমা উপলক্ষ্যে  বিষ্ণুপদধামে শুভাগমন করেন । তিনি দীর্ঘসময় ধরে বিষ্ণুপদ চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে, শাস্ত্রগ্ৰন্থাদিতে বর্ণিত বিষ্ণুপদ চিহ্নের সঙ্গে অপূর্ব সাদৃশ্য দেখতে পান এবং এটাই যথার্থ বিষ্ণুপদ চিহ্ন বলে ঘোষণা দেন।
১৩৯০ বাংলার জ্যৈষ্ঠসংক্রান্তি তারিখে শ্রীনিম্বার্ক আশ্রম, সিলেট থেকে লিখিত একপত্রে তিনি বলেন- শ্রীভূমি শ্রীহট্টস্থিত তারাপাশা গ্ৰামের বিষ্ণুপদ  চিহ্ন জয়যুক্ত হউক। বিষ্ণুপদধামে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ড.মহানামব্রত ব্রহ্মচারী বলেন-অবিশ্বাসী মন লইয়া গিয়াছিলাম। ইতিহাস শুনিয়া ওঁশ্রীপদচিহ্ন সংবলিত প্রস্তরকে প্রত্যক্ষ করিয়া মনে সুদূঢ় বিশ্বাস জন্মিল ইহাই শ্রীভগবানের পদচিহ্ন। তিনি আরো বলেন-গয়াতীর্থে শ্রীবিষ্ণুপাদপদ্ম দর্শনে ও পিণ্ডদান যে ফল হইবে এই পদচিহ্ন দর্শন স্পর্শন এবং এখানে পিণ্ডদান কার্যেও সেইফল লাভ হইবে ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..