সূত্র থেকে জানা যায়, অব্যাহতি প্রাপ্ত সাবেক মহাসচিব তার দুর্গতি বুঝতে পেরে অনুগত দু-একজন ও সংগঠনে নতুন কিছু লোক নিয়ে আজ ০৬ মার্চ ২০২০ইং রোজ শুক্রবার ঢাকার জর্জকোর্ট অডিটরিয়ামে হিন্দুমহাজোটের তৃ-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করে যেটিকে মূল হিন্দুমহাজোটের নেতৃবৃন্দ অবৈধ ও অনৈতিক বলে আখ্যা দেন এবং উক্ত অবৈধ সম্মেলন বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করার প্রেক্ষিতে গত ০৫ মার্চ ২০২০ তারিখেই কর্তৃপক্ষ ভেন্যু বুকিং বাতিল করে দেন এবং প্রশাসন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় এই নামে অবৈধ মহাসচিবের আহবানে কোন সম্মেলন করার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিষয়টি দিনিউজ অনলাইনে প্রকাশিত হলে তৃনমূল পর্যায়ে ব্যপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং অনেকেই ফোন করে সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চায়।
প্রশাসন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার বিষয়টি জানার পরও গোবিন্দ প্রামানিক ও তাঁর অনুগতরা তৃনমূলের সাধারন কর্মীদের সম্মেলন হবে জানিয়ে আসতে বলেন এবং তাদের কথার উপর বিশ্বাস করে সারা দেশ থেকে প্রায় দেড়-দুইশ কর্মী সারা রাত ধরে ঢাকা আসেন। ভোর থেকেই আগত নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়, সম্মেলনের জন্য বিকল্প ভেন্যুর কথা বললেও দুপুর পর্যন্ত রোদে ঢাকার গোপীবাগের রাস্তায় তাদেরকে দাড় করিয়ে রেখে এক নর্দমার পাশে কন্ঠ ভোটের কথা বলে গোবিন্দ প্রামানিক নিজেকে আবার মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করে। বিষয়টি নিয়ে আগত কর্মীদের মধ্যে ব্যপক অসন্তোষ দেখা দেয়। কারণ আগত অনেকেই হিন্দু মহাজোটের বিভক্তির বিরুদ্ধে, তাদেরকে বলা হয়েছিল সকলকে সমন্বয় করে কমিটি করা হবে।
আরও পড়ুনঃ গোবিন্দ প্রামাণিকের হিন্দু মহাজোটের সম্মেলনে কোর্টের অডিটোরিয়াম বুকিং বাতিল
সম্মেলনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কুম্ভ মেলার নাগা সন্যাসীদের উপস্থিতির কথা বলা হলেও কাউকে দেখা যায়নি। যদিও এরকম আগেও কয়েক বার গোবিন্দ প্রামানিক করেছেন, এর আগের এক অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে তাঁকে প্রধান অতিথি করে সবাইকে নিমন্ত্রন করেছিলেন এবং নেতা কর্মীরা এসে জানতে পারেন মূলত মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেননি। সে সময়ও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই জন্য যে মিথ্যা বলার কি দরকার ছিল। নিজের মহাসচিব পদ আকড়ে ধরে রাখার জন্য সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায়কে এভাবে নিচু করার হীন চেষ্টায় সাধারন কর্মীরা অনেক মনোকষ্ট নিয়ে আজ ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন আজকে প্রমানিত হয়ে গেল গোবিন্দ প্রামানিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্যি এবং তাঁকে বাদ দিয়েই মহাজোটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
এ বিষয়ে গোবিন্দ প্রামানিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁকে পাওয়া সম্ভব হয়নি তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর এক অনুগত সম্মেলন নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে যেমন সাড়ে তিন হাজার নেতা কর্মী ৬৪ জেলা ও দেশের সকল উপজেলা থেকে সম্মেলনে এসেছেন, বাস্তবতার সাথে অনুসন্ধানী রিপোর্টে কোন মিল পাওয়া যায়নি। অনেকেই মনে করছেন হিন্দু একগুয়েমি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারনে হিন্দু মহাজোট থেকে গোবিন্দ প্রামানিক অধ্যায়ের অবসান হল।