৭দিনের মধ্যে অপরাধীদের বিচার না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে হিন্দু মহাজোট

হিন্দু যুবকের ফেসবুক হ্যাক করে মিথ্যা গুজব রটিয়ে চট্টগ্রামের হাট হাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রামু, নাছির নগর, রংপুর, ভোলা সহ বিভিন্ন সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ব্যপকভাবে হামলা, লুঠপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অপরাধীদের কোন শাস্তি না হওয়ায় একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। ৭দিনের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার ও দ্রুতবিচার ট্রাইবুনালে বিচার করে শাস্তি বিধান না করলে সারা দেশে একযোগে বৃহত্তর কর্মসূচীর ঘোষণা দিবে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

আজ ২৫ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে এ ঘোষণা দেন।

হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়ের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মহাসচিব অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, সিনিয়র সহ সভাপতি ডাঃ এম কে রায়, প্রদীপ কুমার পাল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডঃ প্রতিভা বাকচী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক সুমন সরকার, নারায়নগঞ্জ জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি রঞ্জিত দে, গাজীপুর মহানগর হিন্দু মহাজোটের সভাপতি মানিক দে সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার, ঢাকা মহানগর ঢাকা দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, নির্বাহী সভাপতি গৌতম রায়, সাংগঠণিক সম্পাদক নিপু পাল, ঢাকা উত্তরের সভপতি প্রবীর হালদার, সাধারণ সম্পাদক শুকদেব হালদার, হিন্দু যুব মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ শঙ্কর, সাধারন সম্পাদক সন্তোষ কুমার মাহাতো, প্রধান সমন্বয়কারী প্রশান্ত হালদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন অধিকারী বিপ্লব ভৌমিক, সাংগঠণিক সম্পাদক প্রবীর সরদার, প্রচার সম্পাদক সিমন সরকার, সজল রায়, গোপাল চন্দ্র রায়, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল, দপ্তর সম্পাদক তপু কুন্ডু প্রমূখ।

বক্তাগণ বলেন একজন হিন্দু যুবকের ফেসবুক হ্যাক করে মিথ্যা গুজব রটিয়ে ভোলা জেলার বিভিন্ন হিন্দু বাড়ী, মন্দির, প্রতিমা ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা হিন্দু পল্লীতে ঢুকে হামলা, শারিরীকভাবে নির্যাতন, আসবাবপত্র ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে ধ্বংষস্তুপে পরিণত করেছে। এতবড় বিশ্বব্যাপী আলোচিত ঘটনা তারপরও অপরাধীরা এখনো গ্রেফতার হয় নাই।

বক্তাগণ বলেন অতীতে চট্টগ্রামের হাট হাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রামু, নাছির নগর, রংপুর সহ বিভিন্ন সময় ফেসুবুকে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ব্যপকভাবে হামলা, লুঠপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অপরাধীদের কোন শাস্তি না হওয়ায় একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে।

দেশে আজ হিন্দু নির্যাতন মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ, সদস্য সিদ্ধার্থ বাড়ৈ ও ইউনিয়ন সচিব মরন চাঁদ বাড়ৈ এর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এখন হাঁসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে ময়মনসিংহে শাওন ভট্টাচার্য, গোপালগঞ্জে সৌরভ গাঙ্গুলী, ঢাকার কেরানীগঞ্জে অন্তর মন্ডল নামে তিন ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফরিদপুরের আড়পাড়ায় রেখা রাণী বিশ্বাস নামে গৃহবধু ধর্ষন শেষে হত্যা করা হয়েছে। দেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ক্রমেই দুর্বিসহ হয়ে উঠছে।

সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায় এখন আতঙ্কিত। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে হামলা, মন্দির, প্রতিমা ভাংচুর, জমি দখল, হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, কিশোরী অপহরন হচ্ছে। ধর্মীয় সংগঠন ইসকন এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে পরিবেশ ঘোলা করা হচ্ছে। অথচ কোন প্রতিকার নাই।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর পরিকল্পিত হামলা, মন্দির প্রতিমা, বাড়ীঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ লুঠপাটের ঘটনায় গত ২০ বছরে কাউকে শাস্তি বিধান করা হয় নাই, যে কারনে অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেকে অবিলম্বে হিন্দু শুন্য করার নীল নক্সা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে একেরপর এক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।