শারীরিক চাহিদা মেটাতে না পারায় স্বামীকে খুন

শারীরিক চাহিদা মেটাতে না পারায় স্বামীকে খুন

শারীরিক চাহিদা মেটাতে না পারায় স্বামীকে খুন করেন ফারজানা। স্বামী শরিফুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে আদলতে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ফারজানা খাতুন।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘দেড় মাস আগে শরিফুলের (২৫) সঙ্গে বিয়ে হয় ফারজানা খাতুনের (১৮)। বিয়ের পর থেকেই শরিফুলের শারীরিক অক্ষমতার কারণে অসুখী ছিলেন ফারজানা। বিষয়টি নিজের স্বজনদের জানিয়ে বিচ্ছেদের কথা বললে তারা ফারজানাকে গালমন্দ করতেন। তাই পরিকল্পিতভাবে শরিফুলকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর করতোয়ায় ফেলে দেন তিনি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গত ৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টায় শ্বশুরবাড়িতে যান শরিফুল। ফারজানা ওই দিন রাত ৩টার দিকে শরিফুলকে প্রতারণার মাধ্যমে নদীর পারে নিয়ে যান এবং কবিরাজের বরাত দিয়ে বলেন, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নদীর স্রোতের পানি তুলে পান করলে শারীরিক অক্ষমতা দূর হবে। শরিফুল তাতে সায় দিলে তার পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে হাত ও পা বেঁধে দেন ফারজানা। এরপর একটি প্লাস্টিকের বোতল হাতে নিয়ে নদীর স্রোতের পানি তুলতে গেলে ফারজানা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং ঘাড় চেপে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফারজানার হাতে কামড় বসিয়ে দেন শরিফুল। এ সময় ফারজানা ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুলের ঘাড় ভেঙে দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল ইসলাম আরো বলেন, কিছুদিন পূর্বেই স্বামী শরিফুলের শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টি ফারজানা তার মা বুলবুলি খাতুনকে জানিয়ে ছাড়াছাড়ির আগ্রহের কথা জানালে তাকে তার মা গালমন্দ করেন। এমন ধরনের ঘটনা শাহজাদপুরে এই প্রথম।

গত ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পার্শ্ববর্তী শিবরামপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পোলঘাটে লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করার পর শরিফুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করেন।

লাশ উদ্ধারের পর নিহতের স্ত্রী ফারজানাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এদিন নিহতের মা সূর্য বানু অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে নিহত শরিফুলের স্ত্রী ফারজানা খাতুন গভীর রাতে শরিফুলকে নদীর ধারে নিয়ে প্রতারণা করে হাত-পা বেঁধে করতোয়া নদীতে ডুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ফারজানা খাতুনকে থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় আদালতে বিচারকের সামনে ১৬৪ ধারায় তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে বিচারক তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।