বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: মার্কিন বিজ্ঞানীরা সৌরজগতে নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা বলছেন, সৌর জগতের বাইরে তারা যে বস্তুটি দেখতে পেয়েছেন সম্ভবত এটিই হচ্ছে আসল নবম গ্রহ, প্লুটো নয়। গবেষকরা সম্ভাব্য ঐ গ্রহটির নাম দিয়েছেন ‘প্ল্যানেট নাইন’।
এটি পৃথিবীর চাইতে ১০ গুণ বড়। গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে সূর্যের থেকে সবচেয়ে দুরে থাকা গ্রহ নেপচুনের চেয়েও ২০ গুণ দুরের কক্ষপথ দিয়ে চলাচল করছে নতুন এই গ্রহটি। সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ নেপচুনের দূরত্বও সূর্য থেকে প্রায় সাড়ে চার’শ কোটি কিলোমিটার দুরে। ফলে সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে এর সময় লাগবে ১০ থেকে ২০ হাজার বছর।
আমরা জানি, সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ প্রায় বৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। কিন্তু সম্ভাব্য এই গ্রহটি প্রদক্ষিণ করছে অনেক বেশি উপবৃত্তাকার পথে। এজন্যই সূর্যের চারপাশ ঘুরতে এর অতটা সময় লাগবে। তারা আরো জানিয়েছেন, এই গ্রহটি প্লুটোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। ফলে প্লুটো নয়, এটিই হবে সৌর জগতের নবম গ্রহ।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক কনস্টানটিন বাতিগিন ও মাইক ব্রাউন বলেছেন, তারা এখনো সরাসরি গ্রহটি দেখেননি। তবে সেখানকার অন্য গবেষকরা তাদের এ বিষয়ে সাহায্য করেছেন। তারা কুইপার বেল্টে (বামন গ্রহ প্লুটো, হাউমিয়া ও মেকমেকের প্রদক্ষিণ পথ) নেপচুন গ্রহটির ঠিক পিছনে কিছু বরফ জাতীয় বস্তু দেখতে পেয়েছেন। এটিই তাদের সেই নবম গ্রহ। এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তারা আরো গবেষণা চালাবেন বলেও জানা গেছে। ব্রাউন বলেছেন, প্রাচীনকাল থেকেই মাত্র দুটি প্রকৃত গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। এবার তৃতীয় গ্রহটি খুঁজে পাওয়া গেল।
যদিও কম্পিউটার মডেলের ওপর ভিত্তি করেই এখনো পর্যন্ত ‘প্ল্যানেট নাইন’ খুঁজে পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, তবে এই গবেষণার একজন প্রধান বিজ্ঞানী কনস্টানটিন বেটিজেন এই গ্রহের অস্তিত্বের বিষয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছরে সৌরজগতের বাইরে গ্রহের অনুসন্ধানে আমরা বেশ সফল হয়েছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে সাধারণ যে গ্রহগুলো রয়েছে সেগুলো আমাদের পাওয়া বস্তুর মতোই, যার ভর প্রায় ১০ টি পৃথিবীর সমান। এটি বেশ উত্তেজনার।’
অত্যন্ত অদ্ভূত ও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত কক্ষপথে থাকা প্লানেট নাইন গ্রহটির অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি গবেষকরা। তারপরও নতুন এ আবিষ্কারে দারুণ আনন্দিত সহকারী গবেষক ব্রাউন। তিনি আশা করছেন, তাদের এ আবিষ্কার অন্যদের মহাশূণ্য গবেষণায় নতুন করে আগ্রহী করে তুলবে। এ কারণেই তারা এই নতুন গ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন।

