মাদারীপুরের ডাসার একসময় প্রত্যন্ত একটি গ্রাম ছিল।সেই গ্রামেই জন্ম আলোচিত ব্যক্তি সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের।অর্থ কষ্টে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল সৈয়দ আবেদ আলীর জীবন।বাবা-মায়ের তিন সন্তান ও এক মেয়ের মধ্যে সৈয়দ আবেদ আলী মেজ ছেলে।পরিবারের আর্থিক টানপড়নের মধ্যে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন জীবিকার তাগিদে ৮ বছর বয়সে ঢাকা পাড়ি জমান।সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ফুটপথে ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করছেন।কারওয়ান বাজারে কুলির কাজ করতেন।কখনও রিক্সা চালানো, হোটেলে প্লেট ধোওয়া কাজ, সবজি বিক্রিতার কাজ, যেখানে যা কাজ পেতেন তাই করতেন তিনি দু’মুঠো খাবার যোগার করতে।
পরে তিনি গাড়ী চালনা শিখেন।এরপরে পিএসসি’র গাড়ী চালককের চাকুরীতে যোগদান করেন সৈয়দ আবেদ আলী জীবন।এরপরেই হাতে আসে আলাউদ্দিনের জাদুর চেরাগ।রাতারাতি পাল্টে যায় জীবনের ভাগ্যের চাকা।
স্থানীয়রা জানান,একসময় সৈয়দ আবেদ আলীর বাবা-মায়ের নিদারুণ কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন তারা।এলাকার প্রবীন এক প্রতিবেশী জানান,সৈয়দ আবেদ আলীর বাবা-মা ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালিছেন।সৈয়দ আবেদ আলী গ্রামে মাটি কাটার কাজ করছেন।অন্যের জমিতে ধান কুড়িয়েছেন।রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার নীজের বংশ পরিচয় মীর পদবী পাল্টে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন গ্রামে আত্মপ্রকাশ করেন। গ্রামেই এসেই হৈচৈ ফেলেন তিনি।
গত দু’বছর ধরে সৈয়দ আবেদ আলী গ্রামেই পরিবার নিয়ে আসা যাওয়া শুরু করেন।এরই মধ্যে গ্রামের বাড়ীতে তিনি নির্মাণ করেন তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন বাগান বাড়ী।বাড়ীর পাশেই তিনি নিজ নামে নির্মাণ করেন মসজিদ, ঈদগার মাঠ।এছাড়াও তিনি সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন গরুর ফার্ম।সরকারি জায়গা দখল করে তার মার্কেট নির্মানাধীন।সম্প্রতি এলাকায় বেশ কিছু জায়গা রেখেছেন।জানাগেছে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম বোতলা,পান্তা পাড়া এলাকায় সৈয়দ আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরীন আক্তার শিল্পি ও ছোট ছেলে সৈয়দ শাহরিয়ার নামে সড়কের পাশে কয়েক একর ফসলি জমি ক্রয় করেছেন।এছাড়াও নামে বেনামে ঢাকা দেশের বিভিন্ন স্থানে সৈয়দ আবেদ আলী জীবন বিপুল সম্পদ অর্জন করছেন।স্থানীয় একজন জানান,পশ্চিম বোতলা মৌজায় ১০০ শতাংশ জমিটি প্রতিযোগিতা করে ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছেন সৈয়দ আবেদ আলী জীবন।
সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের বাবা রকমান মীর ও তার মা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন।গ্রামের বাড়ীতে তার বড় ভাই জাবেদ আলী মীর ও ছোট ভাই সাবেদ আলী মীর বাড়ীতে থাকেন।বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যাওয়া সৈয়দ আবেদ আলী জীবন নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে ফেললেও তার বড় ভাই এলাকায় কৃষি কাজ করেন।ছোট ভাই অটোরিক্সা চালিয়ে এখনও জীবিকা নির্বাহ করেন।
জানাগেছে,ডাসার উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে।ডাসার উপজেলা বাস্তবায়নের সৃষ্টি নেপথ্যের কারিগর প্রয়াত সাবেক যোগাযোগ সৈয়দ আবুল হোসেন।সৈয়দ আবুল হোসেনের বংশধররা সুফি সাদিক হযরত শাহ উসমানের উত্তরসূরি।বংশ পদমর্যাদায় ডাসারে সৈয়দদের ভদ্রলোক লোক হিসেবে পরিচিতি বেশ আছে।
সৈয়দ আবেদ আলী জীবন অবৈধ উপায়ে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক মালিক বনে গিয়ে,এলাকায় নিজের বংশ পরিচয় মীর পদবী পাল্টে ফেলেন।নিজেকে সৈয়দ পরিবার ও প্রায়াত সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের আত্মীয় পরিচয় দিতেন।এছাড়াও এলাকায় বিভিন্ন প্রভাবশালীদের সাথে ছিল তার সখ্যতা।
সৈয়দ আবেদ আলী জীবন এলাকায় এসে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মসজিদ মাদ্রাসা,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করতেন।এলাকায় কারও সমস্যার কথা শুনলে ছুটে যেতেন দাতা হাতেম তাইয়ের মত।নিজেকে পরিচয় দিতেন রিয়েল স্টেটের ব্যবসায়ী শিল্পপতি হিসেবে।সৈয়দ আবেদ আলী জীবন এলকায় আদিপত্য টিকেয়ে রাখতে তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে
ছাত্রলীগের ডাসার উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির করেন। এছাড়াও টাকা আর ক্ষমতার বলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে ঢাকা উত্তর মহানগরের ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাধারণ সম্পাদকের পদও বাগিয়ে নেন তিনি।বাবা-ছেলে মিলে এলাকায় ব্যাপক দানখয়রাত করতে শুরু করেন।এর কিছুদিন পড়েই ছেলে ঘোষণা দেন তার বাবা ডাসার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে জনগণের সেবক হতে চান।বাবা-ছেলে মিলে উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপক প্রচারণা চালান।এলাকায় উড়ে এসে জুড়ে বসা সৈয়দ আবেদ আলীকে অধিকাংশ লোকজন চিনতো না।তিনি কখনো তিনি নিজেকে শিল্পপতি, রিয়েল স্টেটের ব্যবসায়ী, পিএসসির পরিচালক পরিচয় দিতেন।যেখানে যা পরিচয় দরকার তাই দিতেন।বহুরুপি সৈয়দ আবেদ আলী জীবনকে প্রায় লোকজনই তাকে একজন শিল্পপতি হিসেবে জানতো।তিনি হঠাৎ করে রাজনীতে এসে হৈচৈ ফেলেন এলকায়।বাবা-ছেলে চড়তেন বিলাশ বহুল গাড়ীতে।আবেদ আলী পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইজবুকে বেশ সরব ছিলেন।যখন যাকে যা দান খয়রাত করতেন, সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন তার ছেলে।রাজনৈতিক মাঠে ময়দানে নিজেকে ধার্মিক ও সৎযোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন সাধারণ মানুষকে শুনাতেন নিজেকে সৎভাবে গড়ে তোলার বানী।এদিকে তার সহযোগী ছেলেও ববাকে সৎ ও নীতিবান হিসেবে মানুষের কাছে পরিচয় করে দিতেন।মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন আবেদ আলী ও তার পুত্র সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম।এলকায় বাবা-ছেলে চলাফেরা করতেন রাজা- বাদশাদের মত।
সৈয়দ আবেদ আলী সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হলে।তার অবৈধ স্থাপনার দেওয়াল ভেঙে ফেলেন আবেদ আলী।দেওয়াল ভেঙে দিলেও সরকারি জায়গায় পিলার ভেঙে দেন নি।স্থানীয় একজন বলেন, সৈয়দ আবেদ আলী জীবন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পুণরায় কাজ শুরু করতেন।
বেশ কিছুদিন আগে আবেদ পরিবারের তাদের রাজকীয় জীবন নিয়ে ডাসার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার তুহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ছিলেন ড্রাইভার বনে গেছেন কোটিপতি, সড়কের জায়গা দখল করে করছেন গরুর ফার্ম। আবার উপজেলা নির্বাচনেও এমন একটি স্টাটাস দিলে সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম ওই সাংবাদিককে হুমকি প্রদান করেন।এনিয়ে মাদারীপুরের পেশাদার সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা হিসেবে সাবেক সাবেক পিএসসির ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছাত্রলীগ পুত্র সৈয়দ সিয়ামুর রহমান সিয়াম সিআইডির জালে আটক হন।এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।রহস্যের জট খুলতে শুরু করে সৈয়দ আবেদ আলী মীরের আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার নানা গল্প।বাবা-ছেলের ভেলকিবাজিতে হতবাক হয়েছেন এলাকাবাসী।।জানাগেছে সৈয়দ আবেদ আলী সপরিবার ইউরোপের ভিসা করে রেখেছিলেন বিপদ দেখলেই পালাতেন পরিবার নিয়ে।কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।সম্প্রতি বেসরকারী একটি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে বিসিএস এর প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত সাবেক পিএসির চেয়াম্যান সৈয়দ আবেদ আলীর নাম।বাবা -ছেলে পিএসসির প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে জড়িত হয়ে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। প্রতারক ও ধোকাবাজ বাবা -ছেলের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় সৈয়দ আবেদ আলীর জীবন এর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে ইতিমধ্যে ডাসার উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মাদারীপুরের সাংবাদিক কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক বেলাল রিজভী বলেন,সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম অর্থের বিনিময়ে পিএসসিসহ প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে জড়িত হয়ে জাতী ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছিল।তাদের সর্বচ্চ শাস্তি দাবী করছি।
এবিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ আফরোজ বলেন, সৈয়দ আবেদ আলী জীবন সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে বাধাঁ প্রদান করা হয়েছিল।অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়াও হয়েছে। সড়কের জায়গা দখল করার অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।সৈয়দ আবেদ আলী জীবন উপজেলায় অবৈধ সম্পদ করে থাকলে আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তা অনুসন্ধান করতে বললে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।





