সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা তিনশ’ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা তিনশ’ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর এলাকায় সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন’শ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করাহয়েছে। সেতুর নির্মান শ্রমিক মেহেদী হাসান মৃধা বাদি হয়ে মুলাদী থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা, অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনাহয়েছে। ওসি আরও জানিয়েছেন-মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের চিহ্নিত পূর্বক গ্রেপ্তার করাহবে।

সূত্রমতে, এরআগে গত ৬ ডিসেম্বর বেলা বারোটার দিকে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শত শত গ্রামবাসী হামলা চালায়। মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন, গত ৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আড়িয়াল খাঁ নদীর সেতু উদ্বোধনের কথা ছিলো। ওইদিন সকালে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম সরওয়ার, মুলাদী থানার তৎকালীন ওসি মো. সফিকুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্য কর্মকর্তারা আসার আগেই নাজিরপুর ও রামার পোল গ্রামের তিন শতাধিক লোক সেতুরপূর্ব পাড় থেকে মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হামলাচালায়। হামলাকারীরা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ভেঙ্গে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই সভামঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করে লালগালিচা নিয়ে যায়। এতে পুরো অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায় এবং সরকারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। মামলার বাদি মেহেদী হাসান জানান, নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে না পারায় মামলায়অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

সূত্রমতে, ২০১৪ সালে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নাজিরপুর-রামারপোল সৌহার্দ্য সেতু নামে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমদাদুল হক মজনু। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর চলতি বছর মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই রামারপোল গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মো.আয়মন হাসান রাহাত মন্ত্রণালয় থেকে সেতুটির নাম পাল্টে ৩৬ জুলাই সেত ুকরেন। পরবর্তীতে গত ৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের দিন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেতুর নাম পরিবর্তন করা, অবসর প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ইমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেয়া এবং ভূমির মালিকদের টাকা পরিশোধ না করে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় শত শত গ্রামবাসী অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরবর্তীতে কর্মকর্তারা ওইদিন বরিশাল শহরে গিয়ে ‘ সৌহার্দ্য ৩৬ জুলাই সেতু’ নাম দিয়ে ভার্চুয়ালি সেতুটির উদ্বোধন করেছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।