মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদ এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই
সতীশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে অরবিন্দু রায়। পরিবার জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিরল উপজেলার মোস্তফাবাদ গ্রামের পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সতীশ চন্দ্র রায় স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিরলের মঙ্গলপুরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
দেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত সতীশ চন্দ্র রায় ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি তৎকালীন দিনাজপুর-৭ এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর-২ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
সতীশ চন্দ্র রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।





