সরকার যায় সরকার আসে, সর্বদলীয় লুঠেরাচক্রের কিছু হয়ই না বরং মাথায় উঠে বসে

দেবাশীষ মুখার্জী (কুটনৈতিক প্রতিবেদক) : বাংলাদেশ শেয়ার বাজারে ভয়াবহ দরপতন চলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের শেয়ার বাজার মূলত একটি প্রতারণার ফাঁদ – যেখানে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে এনে, সর্বস্বান্ত করে ছেড়ে দেওয়া হয়। সরকার যায় সরকার আসে,এই সর্বদলীয় লুঠেরাচক্রের কিছু তো হয়ই না ; বরং অবৈধ অর্থের বদৌলতে এরা, নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীর মাথায় উঠে বসে।

বছর বছর সাইনবোর্ড সর্বস্ব হায় হায় কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত করে – উচ্চ মূল্যে সেকেন্ডারী গ্রাহকদের গছিয়ে দিয়ে, হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তার উপরে প্লেসমেন্ট ও রাইট শেয়ার ছেড়ে, অসাধু কোম্পানিগুলোর চক্ষু লজ্জাহীন নির্মম প্রতারণা তো রয়েছেই। বোনাস শেয়ারের নামে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে, অসচেতন বিনিয়োগকারীদের ধোঁকা দিয়ে, জাঙ্ক শেয়ারের দাম ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তালগাছে উঠিয়ে, ধপাস করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া মিথ্যা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা – ধান্ধাবাজ কোম্পানি-মালিকদের অভ‍্যাসে পরিনত হয়েছে। এই জঘন্য কারসাজির ফলে, সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে বহু বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। অথচ এই পুঁজিবাজার হতে পারতো, শিল্প-কারখানা স্থাপনে, বিকল্প অর্থের উৎস। বিভিন্ন সফল রাষ্ট্রে, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনের মাধ্যমে, সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা হয়েছে – ধনবৈষম্য হ্রাস পেয়েছে ; রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক বুনিয়াদ মজবুত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত ।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি ঘটে ১৯৯৬ সালে। বিভিন্ন অসুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শেয়ার বাজার লুঠেরাচক্র, দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের নামে – রাষ্ট্রায়ত্ব ব‍্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল আমানত হজম করে ফেলেছে। ঐ টাকায় তারা বেসরকারি ব‍্যাংক স্থাপন করে, আমজনতার পকেট কেটেছে। ঐ লুঠেরাচক্র ২০১০ সালে শেয়ার বাজার থেকে সাগর চুরি করে, লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে – মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের সুযোগ নিয়েছে ; কানাডায় বেগমপল্লী বানিয়ে বাদশাহী ভোগ-বিলাস করছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।