মুজিববর্ষের মধ্যেই সারাদেশর সব ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছাতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করে এ কথা জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে শেখাতে চাই যারা বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। এজন্য প্রযুক্তির শিক্ষাটা একান্তভাবে দরকার। কর্মক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন নতুন ক্ষেত্রও আমাদের প্রয়োজন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, ৭ জেলা ও ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি, পাশাপাশি ফেনীতে নির্মিত ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। প্রথমত এজন্য প্রযুক্তি শিক্ষা একান্ত দরকার। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র প্রয়োজন। এজন্য আমরা ক্ষমতায় আসার পর যেসব খাত সরকারি ছিল সেগুলো উন্মুক্ত করে দেই। দেশের উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপও নিয়েছি।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর আমরা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বেশি জোর দিয়েছি। এ পর্যন্ত সারা দেশে আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি।
তিনি আরও বলেন, ৯৬ সালের একটি মোবাইলের দাম ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিএনপির একজন নেতা এই মোবাইল কোম্পানির মালিক ছিলেন। তখন একটি কল ধরলেও ১০ টাকা একটি কল করলেও ১০ টাকা মিনিট খরচ হত। এখন আমাদের তরুণরা মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করছে। আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত একটি দেশ হবে। এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বিশ্বের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, সে জন্য আমরা ২১০০ সালকে সামনে রেখে ডেল্টাপ্লান ২১০০ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছি।
এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহীতে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ৭টি জেলা ও ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মাসব্যাপী নাট্য উৎসব উদ্বোধন করেন।
শেখ কামাল আইটি সেন্টার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী লোক আমাদের খুব একটা ভোট দেয় না। তারা ভোট দেয় অন্য জায়গায়। কিন্তু এ অঞ্চলের উন্নয়ন হয় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে। সেদিক লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রযুক্তি শিক্ষা দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। সেজন্য এ সেন্টার গড়ে তুলছি। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে। অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে’।




