সখীপুরে মা হচ্ছে শোভা পাগলি কিন্তু বাবা হবে কে?

সখীপুরে মা হচ্ছে শোভা পাগলি কিন্তু বাবা হবে কে?

মানসিক প্রতিবন্ধী শোভা। বয়স ১৭-১৮ হবে। ছিন্ন কাপড়ে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সমাজ তাকে পরিচয় দিয়েছে পাগলি, কিন্তু পাগলির সমাজ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তাই বিয়েও হয়নি তার। জানে না বিয়ের মর্ম, স্বামীর সোহাগ। তবুও পাগলিটা এবার মা হচ্ছে। কিন্তু অনাগত ওই সন্তানের দায়িত্ব নেবেন কে? মানসিক এ প্রতিবন্ধীর গর্ভবতী হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কে হবে শিশুর বাবা! কার লালসার শিকার এই পাগলী এ আলোচনা এখন সখিপুরের টক অব দ্যা টাউন।

বুধবার সকাল থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবতী গর্ভবতী হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ওই পাগলির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা-সামলোচনা চলছে। সকলেই ক্ষোভ আর ঘৃণা প্রকাশ করছেন।

সখীপুর পৌর শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অনেকদিন ধরেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান নাম-পরিচয়হীন ওই পাগলি যুবতী। যাকে সবাই ’শোভা পাগল’ নামেই ডাকে। কেউ কেউ ওই পাগলির বাড়ি উপজলার গড়বাড়ি, তৈলধারা আবার কেউ কুতুবপুর বলে দাবি করেছেন। তবে কেউ প্রকৃত ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি। শহরে যত্রতত্র তার চলাচল। যেখানে রাত সেখানেই কাত। ধারণা করা হচ্ছে- রাতের আধারে কোনো লম্পটের লালসার শিকার হয়েছে মেয়েটি।

আহমেদ শফী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাগলির চিকিৎসা ভার গ্রহণে এবং এক সন্তানহীন দম্পতি পাগলির সন্তানকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে যে বা যারা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর সঙ্গে এ অমানবিক কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোনসুর আহমেদ জানান, খোঁজ নিয়ে ওই নারীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।