কয়রায় পূজামণ্ডপে মনিরুল হাসান বাপ্পী, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

কয়রায় পূজামণ্ডপে মনিরুল হাসান বাপ্পী, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
কয়রায় পূজামণ্ডপে মনিরুল হাসান বাপ্পী, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষকে নিজেদের সংখ্যালঘু না ভেবে দেশের সম-অধিকারভোগী নাগরিক হিসেবে ভাবতে হবে। আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এ উৎসব মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাও এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আপনারা এ দেশের সমান অধিকারভোগী নাগরিক। আপনারা নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। কেউ এতে বাধা সৃষ্টি করবে না—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’

কয়রার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলার প্রায় ২০১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, নতুন ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও ভবন সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, সুপেয় পানি, পানির ট্যাংক এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ বরাদ্দ আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাপ্পী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করছেন। তবে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু ও আবু সাঈদ বিশ্বাস এবং জেলা জাসাসের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ, আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক আবুল কালাম, জি এম রফিকুল, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।