শেষকৃত্যের পণ্য বাণিজ্য বাড়ছে জাপানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানে এখন রমরমা শেষকৃত্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর বাজার।

টোকিও থেকে শুরু করে ইয়াকোহামা, জাপানের প্রায় সব ছোট-বড় সব শহরেই এক চিত্র। ফুটপাথ জুড়ে সারি সারি রঙিন কফিন, বালিশ আর সুদৃশ্য মাদুরের ছড়াছড়ি।

পরিসংখ্যানে জানা যায়, জাপানে বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই মুহূর্তে যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ২৫শতাংশ। ২০৬০ সালের মধ্যে তা ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দেশটির খ্যাতনামা এক কফিন প্রস্তুতকারক সংস্থার প্রধান বলেন, ‘বাজারে কফিনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সেই তুলনায় জোগান দিতে পারছি না।’

কফিনে বিশেষ এক ধরনের চাটাই রাখার প্রথা রয়েছে জাপানে। চাটাই প্রস্তুতকারক এক সংস্থার দাবি, ‘বছরে ১২ লাখ ব্যক্তির মৃত্যু হচ্ছে। অথচ বিক্রি করতে পারছি মাত্র ৬০ হাজার। উৎপাদন আরও বিাড়ানো প্রয়োজন।’

গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারণে যেমন দেশটিতে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনই জন্মের কম হারও এর আর একটি বড় কারণ।

সরকারি তথ্য মতে, ২০১৪ সালে দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ১৩ লাখ। যেখানে জন্ম হয়েছে মাত্র ১০ লাখ শিশুর।

এসব প্রবীণদের অনেকেরই রয়েছে আর্থিক প্রাচুর্য। ফলে জীবনের শেষ দিনগুলো শুধু নয়, শেষকৃত্যের পর্বটিও যেনো পরিপাটি হয়, সেই ব্যবস্থা করে রাখতে চাইছেন। জাপানের কর্পোরেটদের একটা বড় অংশ পছন্দসই কফিন ও তার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে রাখছেন।

জাপানে সম্প্রতি শুরু হয়েছে ‘লাইফ-এন্ডিং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপো’। তাতে এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছে কমপক্ষে ২০০টি সংস্থা। কফিন ইত্যাদি তো বটেই, মৃত্যু-পরবর্তী অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়ন ঘিরেও আশার আলো দেখছে শিল্পমহল।

বিক্রি বেড়েছে বিভিন্ন আকারের বুদ্ধমূর্তির। মৃত পরিজনের স্মৃতি ধরে রাখতে জাপানে মৃতের চুল-নখ ইত্যাদি সংরক্ষণের রেওয়াজ রয়েছে। বাজেট একটু বাড়াতে পারলে নিজের বা আত্মীয়ের স্মৃতি  সংরক্ষণ করা হচ্ছে হীরা-খচিত পাত্রেও। সেই দিকে নজর দিয়েছে দেশটির অলঙ্কার ব্যবসায়ীরা।

এসবই অবশ্য মৃত্যুর পরের জন্য। জীবনের শেষার্ধের প্রয়োজন মেটানোর আয়োজনও বাড়ছে জাপানে। প্রবীণদের ডায়াপার মিলছে যে কোনও ওষুধের দোকানে। বেশির ভাগ ব্যাংক-অফিসেই রয়েছে বিশেষ পাওয়ার-গ্লাসের ব্যবস্থা। বয়স্ক নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে সহজে ব্যবহার করা যায়, এমন সব রোবট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রও তৈরি করছে বিভিন্ন জাপানি সংস্থা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।