× Banner
সর্বশেষ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী,দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দুই লক্ষাধিক টাকার চেক বিতরণ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী অনুষ্ঠিত তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু পাইকগাছায় ছাত্র ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর শেষ ভারতীয় হাইক‌মিশনা‌রের স‌ঙ্গে আইএবিডির প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের সাক্ষাৎ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কা‌ছে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও নৈতিক শিক্ষার দাবি: বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন

ACP
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন

 শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রমবর্ধমান যৌন হয়রানি, শিশু নির্যাতন এবং শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কংগ্রেস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে” এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কংগ্রেস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আমীন শাহীন। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা বাচ্চু।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দলের অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মোস্তফা আনোয়ার ভূঁইয়া রিপন, দপ্তর সম্পাদক মো. তুষার রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপরাধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পুরো সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি করছে। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; আইনের কার্যকর প্রয়োগ, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীবান্ধব বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, আর ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে শিক্ষাঙ্গনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, শিক্ষকদের নৈতিকতা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং শিশু সুরক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে পরিণত করতে সরকার, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনই পারে একটি সুস্থ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। তাই শিশু নির্যাতন ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে এখনই সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..