রেখা হত্যায় গ্রেফতার চার, পূর্বেও একই স্থানে হিন্দু মেয়েকে হত্যায় তটস্ত এলাকাবাসী

ফরিদপুরের প্রাইড জুট মিল শ্রমিক কাজল রেখা বিশ্বাসকে গণধর্ষণের পর যৌনাঙ্গে যথেচ্ছভাবে ছুরিকাঘাত করে এবং ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নাজমুল ও তার দল। কিছুদিন আগে ওই একই কলাবাগানে নবম শ্রেনীতে পড়া একটা হিন্দু মেয়েকে একই ভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করে। রেখা ধর্ষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করায় গ্রামবাসী কিছুটা আশ্বস্ত ।

বিস্তারিত: শুধু ধর্ষণ করেই আশ মিটলো না প্রানটা পর্যন্ত কেড়ে নিল রেখা রানী বিশ্বাসের

কাজল রেখা নসিমনে করে মিলে যাওয়া আসা করতেন। গত ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নসিমন চালক চুন্নু সিকদার ঝড়ু জানান মিলে ডিউটি আছে। কাজল রেখা তার কথা মত বাসা থেকে বের হলে নসিমন চালক ঝড়ু নসিমনে উঠিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি কলা বাগানের পাশে নসিমনটি দাঁড় করিয়ে তাকে নামতে বলেন। এ সময় ঝড়ু ও তার সহযোগী নাজমুল, ইসলাম, আতিয়ার মোল্লা ও নয়ন জোড়পূর্বক কাজল রেখাকে কলাবাগানে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে একপর্যায়ে তারা সকলে মিলে রেখার যৌনাঙ্গে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে  হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। তারা ভেবেছিল পূর্বের মত এবারো কিছু হবে না। কিন্তু রেখার উপর হওয়া এই বর্বরতা প্রথম অনলাইন পত্রিকা দি নিউজ  তাদের মধুখালী প্রতিনিধি সহিদুল ইসলামের সাহায্যে সবিস্তারে প্রকার করে। তার পাশাপাশি অন্যান্য পত্র পত্রিকা সহ ফেসবুকে এমনভাবে ভাইরাল হয় যে তা নিয়ে ভাবতে প্রশাসন বাধ্য হয়।

পরেরদিন বুধবার বিকেলে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে নসিমন চালক চুন্নু সিকদার ঝড়ুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নসিমন চালক চুন্নু সিকদার ঝড়ুকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কাজল রেখাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পুলিশের কাছে মূল ঘটনার বর্ণনা দেন। ঝড়ুর দেয়া তথ্যানুসারে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নাজমুল (৩২), ইসলাম (৩২) ও আতিয়ার মোল্লাকে (৪২) গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের সবার বাড়ি পশ্চিম আড়পাড়া এলাকায়। নাছির খান নয়ন (৪০) নামে আরেক আসামি পলাতক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রাজধরপুর এলাকায় অবস্থিত প্রাইড জুট মিলের নারী শ্রমিক কাজল রেখার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পশ্চিম আড়পাড়ার একটি কলা বাগান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

তার এই ঘটনার পর থেকে তার পরিবারকে নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তার অসুস্থ দাদা তার শোকে মারা গেছে গতকাল। এলাকাবাসী বলে কিছুদিন আগে ওই একই কলাবাগানে নবম শ্রেনীতে পড়া একটা সনাতনী মেয়েকে একই ভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে যার কোন বিচার হয়নি এখনো। ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবাইকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ে বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।