রাশিয়ার যুদ্ধ বিরতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

রাশিয়ার যুদ্ধ বিরতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

৭ জানুয়ারি রাশিয়ার অর্থোডক্স ক্রিসমাস। এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, সবটাই রুশ প্রেসিডেন্টের রণকৌশল। রুশ সেনাদের বিশ্রাম দিতে এবং সেই সুযোগে ইউক্রেনের বাহিনীকে প্রতিহত করার ছক কষে নিতেই, ছলে-বলে-কৌশলে সময় বাগিয়ে নেওয়া। তবে যুদ্ধবিরতিকে পুতিনের ‘রণকৌশল’ বলে উড়িয়ে দিলেও তার অনুরোধকে উপেক্ষা করার কথা বলেনি ইউক্রেন।

যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা বিশ্বের সামনে ইউক্রেনকে আগ্রাসী প্রতিপন্ন করতে এবং সমঝোতায় নারাজ দেখাতেও এই কৌশল নিয়েছেন পুতিন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বলেছেন, ‘‘এ বার বড়দিনকেও হাতিয়ার করছে ওরা। ডনবাসে আমাদের ছেলেরা এগোচ্ছে। ওরা বেশ চাপে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে বিশ্রাম দেওয়া হবে রুশ সেনাদের। সেই সঙ্গে আরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র আনানো হবে। সেনাবাহিনীর অবস্থান নতুন করে সাজানো হবে। আসল যুদ্ধবিরতির অর্থ আগ্রাসন থামানো… যুদ্ধ তখনই থামবে, যখন ওদের সেনা আমাদের জমি ছেড়ে যাবে বা আমরা ওদের ছুড়ে ফেলে দেব।’’

সমর বিশেষজ্ঞেরা বলেছেন, ‘‘এই সমঝোতায় শুধুমাত্র রুশদের উপকার হবে। ইউক্রেন আবারও বঞ্চিত হবে। আচমকা এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। পুতিনের উচিত নয় এটা আশা করা যে ইউক্রেন তাদের আর্জি মানবে।’’

ইউক্রেনীয়রা বড়দিন পালন করে ২৫ ডিসেম্বর। এ সময়ে বা নববর্ষে যুদ্ধ বন্ধ রাখেনি রাশিয়া। বরং ১ জানুয়ারি মধ্যরাতেই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে পুতিনের বাহিনী। এহেন অবস্থায় শোনা যাচ্ছে, রুশ যুদ্ধবিরতিতে ঢিলে দিচ্ছে না ইউক্রেন। বরং প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে। আমেরিকা, ইউরোপ থেকে আরও অস্ত্র আসছে ইউক্রেনে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকল’ পাঠানো হয়েছে ইউক্রেনে। তবে ঠিক কত সংখ্যক অস্ত্রবাহী যান পাঠানো হয়েছে, তা জানায়নি পেন্টাগন। আরও একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা প্যাকেজ ঘোষণা করার কথা রয়েছে হোয়াইট হাউসের।

যুদ্ধবিরতি চললেও ইউক্রেনে সাইরেনের আওয়াজ থামেনি। বিশেষ করে

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও আকাশপথে হামলা চলেছে পূর্ব ইউক্রেনে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিছুটা ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলেছেন, ‘‘পুতিন কিন্তু ২৫ ডিসেম্বর বা নববর্ষে হাসপাতাল, নার্সারি, গির্জায় হামলা চালিয়ে গিয়েছে। বিষয়টা খুবই মজার। মনে হয়, উনি কিছুটা অক্সিজেন চাইছেন।’’ আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘‘ওদের ওই ঘোষণার পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য, তা জানা নেই। তবে ওদের উপরে ভরসা রাখা যায় সামান্যই।’’

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।