রামমন্দিরের উদ্বোধন করলেন প্রধান যজমান নরেন্দ্র মোদী

রামমন্দিরের উদ্বোধন করলেন প্রধান যজমান নরেন্দ্র মোদী

বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ এবং কমান্ডোবাহিনীর জওয়ানে ছয়লাপ গোটা অযোধ্যা। প্রতিটি উঁচু বাড়ির মাথায় বিশেষ রাইফেল নিয়ে প্রহরারত স্নাইপার। আকাশে নিরন্তর উড়ছে অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন। নিরাপত্তার মোটা চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ‘রামজন্মভূমি’কে। চলছে পুজোর আচার-অনুষ্ঠান। নেতৃত্বে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শঙ্খ-ঘণ্টাধ্বনিতে মুখরিত অযোধ্যা নগরী। হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অযোধ্যা নগরীতে। রামমন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার বিগ্রহের চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়েছে। রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। হাতে পদ্মফুল নিয়ে পুজো করছেন প্রধানমন্ত্রী।

রামমন্দিরের গর্ভগৃহে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই রয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তারা পুজোয় বসেছেন। পঞ্চপ্রদীপে রামলালার আরতি করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ সম্পন্ন হয়ে গেল। রামলালার বিগ্রহের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন নরেন্দ্র মোদী। গুনে গুনে ঠিক ৮৪ সেকেন্ড। তার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরে রামের বিগ্রহে ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’। বিশেষ ওই সময়টুকুর নাম ‘অভিজিৎ মুহূর্ত’। ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’র জন্য এই সময়টিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ শেষে অযোধ্যার রামমন্দির থেকে বেরিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হাত জোড় করে মন্দির চত্বরে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান তিনি। শুরু হয়ে গেল জনসভা।

সকাল থেকেই রামমন্দির প্রাঙ্গণে নেমেছে তারকাদের ঢল। বলিপাড়ার তারকা থেকে শুরু করে হাজির হয়েছেন দক্ষিণী ফিল্মজগতের অভিনেতারাও। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই রামমন্দিরে পৌঁছলেন বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন। দক্ষিণী ফিল্মজগতের জনপ্রিয় তারকা রজনীকান্তও হাজির হয়েছেন অযোধ্যার রামমন্দিরে।রামলালার বিগ্রহের ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ উপলক্ষে হাজির হয়েছেন বলি গায়ক সোনু নিগম। ‘রাম সিয়া রাম’ ভজন গাইতে শোনা গেল তাকে। গানের শেষে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি উচ্চারণ করে মঞ্চ থেকে নামেন তিনি। এসেছেন রতন টাটা, গৌতম আদানি এবং সপরিবারে মুকেশ আম্বানি। আরো এসেছেন সাবেক ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার সহ অন‍্যান‍্য তারকারা।

আমন্ত্রণ পেলেও রামমন্দির উদ্বোধনের সময় অযোধ্যায় উপস্থিত থাকছেন না লালকৃষ্ণ আডবাণী। একদা রামমন্দির আন্দোলনের ‘মুখ’, নবতিপর এই বিজেপি নেতা ‘প্রচণ্ড ঠান্ডা’র কারণেই রামলালার ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’য় থাকতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে।

আডবাণীর বয়স এখন ৯৬। তিনি এবং মন্দির আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা আর এক প্রবীণ বিজেপি নেতা মুরলীমনোহর জোশী রামমন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে গোড়া থেকেই সংশয় ছিল। কিছু দিন আগে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছিল, বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতির কারণে অযোধ্যায় না-ও যেতে পারেন আডবাণী এবং জোশী। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বলেছিলেন, “দুই নেতারই বয়সের বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে। আমরা তাঁদের না আসার অনুরোধ করেছি। দু’জনেই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।”

কিন্তু পরে চম্পতের সেই দাবি কার্যত খারিজ করে দেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-র নেতা অলোক কুমার। তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, রামমন্দিরের উদ্বোধনে আডবাণী উপস্থিত থাকবেন। প্রবীণ নেতার জন্য অযোধ্যায় সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, তিন দশক আগে রামমন্দির আন্দোলনে সঙ্ঘ পরিবারের ‘মুখ’ ছিলেন আডবাণী। তার রামরথ যাত্রায় ভর করে হিন্দি বলয়ে চমকপ্রদ উত্থান হয়েছিল বিজেপির।

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় সব দলই সোমবার উৎসবমুখর অযোধ্যাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। সিপিএম আগেই জানিয়েছিল, তারা অযোধ্যায় যাচ্ছে না। তাদের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, তারা মানুষের ধর্মীয় আবেগকে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলার অভিযোগ করে তারা। আজ হাজরা থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত তৃণমূলের ‘সংহতি যাত্রা’য় হাঁটতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মা কালীকে ছুঁয়ে, মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বার, গির্জা ছুঁয়ে, সর্ব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই মিছিল করব।’’

আমন্ত্রণ পেলেও অযোধ্যা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ এখন বিজেপিশাসিত অসমের উপর দিয়ে যাচ্ছে। সোমবার সে রাজ্যের নওগাঁওতে বটদ্রব সত্র মন্দিরে ঢুকতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাকে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল। তার পরেই অবস্থানে বসে পড়েন কংগ্রেস নেতা। যদিও মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁরা কেবল স্থানীয় সাংসদ এবং স্থানীয় বিধায়ককে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন। রাহুলকে মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “আমরা জানিয়েছিলাম যে, ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় মন্দিরে যাব। কিন্তু গত কাল হঠাৎ বলা হল, দুপুর ৩ টে পর্যন্ত আমরা সেখানে যেতে পারব না।” অসমের বিজেপি সরকারের চাপের মুখেই মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত বদলেছেন বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।