যৌতুকের দাবি না মেটানোয় সন্তানকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গরম খুন্তির ছ্যাকা

নোয়াখালীতে যৌতুকের দাবি না মেটানোয় এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। সন্তানকে বেঁধে রেখে তার সামনেই মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দেওয়াসহ বর্বরভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে ওই নারীর ওপর। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ওই গৃহবধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়ে রাতে ওই নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন উজ্জ্বলের সঙ্গে ২০০৯ সালে কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন কলির (২৭) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও স্বজনরা জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য কলির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল উজ্জ্বল। চাপে পড়ে বাবার বাড়ি থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য কয়েকবার টাকাও এনে দেন কলি। প্রায় দুই মাস আগে সৌদি প্রবাসী উজ্জ্বল দেশে ফেরার পর আবারও যৌতুকের জন্য কলির ওপর নির্যাতন শুরু করে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে জেলা শহরের বসিরার দোকান এলাকায় ভাড়া বাসায় যৌতুকের জন্য কলির মাথার চুল কেটে দিয়ে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দেয় উজ্জ্বল।

এ সময় শিশুসন্তানকে বেঁধে রাখে সে। উজ্জ্বল ছেলেকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ছেলেসহ গোপনে পালিয়ে বাবার বাড়িতে ওঠেন কলি। সেখান থেকে শুক্রবার তাকে চিকিৎসার জন্য কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানেও সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় উজ্জ্বল। সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য কলিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। সেখান থেকে রাতে কলিকে জেলা সদরে নেওয়ার সময় উজ্জ্বল আবারও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রাতে কলিকে দেখতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহিম। এ সময় তারা এ ঘটনাকে বর্বরোচিত উল্লেখ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির উদ্দিন জানান, কলির সারা শরীরে গরম লোহার খুন্তি দিয়ে ঝলসে দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।