ভারতীয় বংশোদ্ভূত সনাতন ধর্মালম্বী ঋষি সুনাককে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করে – ব্রিটেনের নাগরিকবৃন্দ উদারতার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সঙ্গত কারণেই মহান ব্রিটিশ জাতি শ্রদ্ধার দাবী রাখে। স্মরণ করা যেতে পারে, ভারতীয়রা কিন্তু একজন ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত ক্যাথলিককে প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে দেয়নি।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ডাক ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শাসনতন্ত্র, আইন-আদালত সহ চারপাশের সমস্ত কিছুই ব্রিটিশদের সৃষ্টি। কিংবা ইউরোপীয়দের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আবিষ্কার-উদ্ভাবনের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয়দের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশরা।
ইউরোপের মাত্র তিনটি জাতি তাদের রাষ্ট্রকে সম্প্রসারিত করতে পেরেছে। এই তিনটি জাতি হচ্ছে পর্তুগিজ, স্প্যানিশ ও ব্রিটিশ। এদের মধ্যে ব্রিটিশরা বিনির্মাণ করেছে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অসাধারণ চারটি রাষ্ট্র।
ব্রিটিশ-সৃষ্ট আমেরিকা আজ পৃথিবীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুপারপাওয়ার। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো অফুরন্ত সম্পদশালী বিশাল দু’টি রাষ্ট্র – ব্রিটিশরা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছে। এরকম উদারতার দৃষ্টান্ত বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
ঋষি সুনাক ব্রিটেনের ক্রান্তিকালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন। বিশেষ করে স্কটল্যান্ড যদি যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে ব্রিটেনের আয়তন ও জনসংখ্যা যেরকম কমে যাবে; সেই সঙ্গে সমুদ্রের নিচের তেল সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাবে।
ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে ঋষি সুনাক অন্যতম। স্কটল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডের অধিবাসীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে। সম্ভাব্য বিশ্বমন্দা মোকাবেলার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি, ঋষি সুনাক কিভাবে যুক্তরাজ্যের ভাঙ্গন ঠেকাবেন – সেটাই এখন বিশেষজ্ঞ মহলের প্রধান কৌতুহল।





