তুরস্ক সফর ও ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

তুরস্ক সফর ও ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান
তুরস্ক সফর ও ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

তুরস্ক সফর ও পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

বিমানবন্দরে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর বুধবার ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক

তুরস্ক সফরের অংশ হিসেবে গত ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও এ সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে আসে।

বাংলাদেশ স্টাডিজ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য

গত ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তুরস্কের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ওমরাহ পালন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন

তুরস্কে সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের কর্মসূচি শেষে ডা. শফিকুর রহমান সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। এরপর রোববার সকালে দেশে ফিরে আসেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির।

তাঁর এ সফরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা, তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।