ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত

ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত
দালালের প্রলোভনে পড়ে সীমান্তের অবৈধ পথে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ফেরত দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন, বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান (ট্রাভেল পারমিট নং-১২২৫৯৭২) এবং অপরজন একই এলাকার মৃত আলী হোসেন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম (ট্রাভেল পারমিট নং-১২২৫৯৭৩)।
হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা যায়, ভারতের কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে তাদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়। ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), কলকাতা তাদের ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ প্রদান করে। পরে দুই দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশ, মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা ২০২৩ সালে চিকিৎসার জন্য দালালের প্রলোভনে পড়ে পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে পাচার হন। সেখানে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের হাতে আটক হন এবং তাদের দমদম জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। পরে দেশটির একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে এবং দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, দেশে ফেরত আসা নারীদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত ফেরত আসা নারীদের সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।