ভারতকে বাদ দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীন -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভারতকে বাদ দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীন -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে সহজ শর্তের ঋণ পেতে চীন সরকারকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদী পাড়ের মানুষের দুঃখ লাঘবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় সমীক্ষাও করা হয়েছে। গত বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার সরকার টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটির ব্যাপারে আবারো আগ্রহ প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষকদের অনেককেই ধারণা করেন, এতোদিন ভারতের আপত্তির কারণেই চীনের সাথে এ প্রকল্প নিয়ে এগুতে পারছিল না বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দেয়া বক্তব্যে চীনের অর্থায়নের কথা বললেও ভারতের বিষয়ে কিছু বলেননি।

শেখ হাসিনার সরকার টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটির ব্যাপারে আবারো আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের সময়- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, তিস্তা প্রকল্পে ভারত অর্থায়ন করতে চায়।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, জুলাই মাসের প্রথমার্ধে চীন সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে, চলতি মাসের ২১ তারিখে দুই দিনের জন্য তিনি ভারত সফরে যাবেন। অবশ্য নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই একবার ভারত সফর করেছেন শেখ হাসিনা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছিলেন, নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হবার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। নির্বাচনের পরেও চীনের রাষ্ট্রদূত তার সেই আগ্রহ চাপা রাখেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ চাইলে তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে তৈরি আছে চীন।

ভারতের গবেষণা সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনুসূয়া বসু রায়চৌধুরী বলেন, তিস্তা প্রকল্পের যে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে সেটি অস্বীকার করা যাবেনা। তিনি বলেন, ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্ব বহন করে এমন সব প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চীন ‘অতিরিক্ত আগ্রহ’ প্রকাশ করে। চীন চায় তাদের উপস্থিতি জোরালো করতে।

তবে, এর সঙ্গে দ্বিমত করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। তার মতে, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহ এখানে গৌণ এবং তাদের কোন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত নেই। অধ্যাপক আহমেদ বলেন, “তিস্তা নদীতে এটি বাংলাদেশের প্রকল্প, এটি চীনের কোন প্রকল্প নয়। চীন শুধু এখানে অর্থায়ন করতে রাজী হয়েছে। কারণ অন্যরা সে অর্থ দিতে পারছেনা।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেটি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দুর্ভোগ কমাবে। কিন্তু, শুষ্ক মৌসুমে কী হবে ― যখন তিস্তার পানি প্রবাহ অনেক কমে যায়?

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
সংবাদ প্রতিনিধি

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।