বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়।
আজ রবিবার শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাংবাদিকদের সংগে মতবিনিময় কালের বক্তব্য উপস্থাপন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আপনাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জাতীধর্ম নির্বিশেষে দেশবাসীকেও জানাই জন্মাষ্টমীরশুভেচ্ছা। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকা মহানগরের হিন্দু ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সারাদেশের পূজা সংগঠনগুলোর সঙ্গে গত ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
আমাদের অন্যতম জাতীয় উৎসব জন্মাষ্টমীও শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে খোলামেলা মতবিনিময় আমাদের এই দুই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। এটা নিয়মানুগ সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ না রেখে মতবিনিময় সভায় রূপান্তর করেছি এই কারণে যে, আমরা বাংলার চিরায়ত উৎসবের পরিপূর্ণ আয়োজন ও বিভিন্ন দিক নিয়েই শুধু আপনাদের সঙ্গে কথা বলি না, জাতীয় উৎসব যথার্থ ধর্মীয় পরিবেশে উদযাপনে সব মানুষকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও আমরা কীভাবে এগুতে পারি, সে সম্পর্কে আপনাদের পরামর্শও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করি। আমরা মনে করি, এতে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সার্বজনীনতাও বৃদ্ধি পায়। আপনারা গত বছর লক্ষ্য করেছিলেন যে, এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিপদ সামনে রেখে জন্মাষ্টমী ও দূর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক শক্তির দাপট অবশ্য এখনো পুরোপুরি থামেনি, সরকারের জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে জঙ্গি তৎপরতা অনেকটা ম্লান হয়ে এসেছে। তবুও আমরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মঠ-মন্দিরে হামলা ও জায়গাজমি জবরদখলের খবর পাচ্ছি। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ আছে।
আমরা কয়েক দশক ধরে বলে আসছি, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা নির্যাতন নিপীড়ন-হত্যাকান্ডের শিকার, মঠ-মন্দির আক্রান্ত হচ্ছে, দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখল হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারীরা। এসব হচ্ছে তাদের দেশ থেকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। এই অবস্থা দেশে সংখ্যালঘুদের হারকে কোথায় নামিয়ে দিয়েছে তা আপনারা জানেন। আমরা বারবার বলেছি, দুর্বৃত্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক, দেশত্যাগ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরিবেশ গড়ে তোলা হোক। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করে বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংবিধানে ফেরার তাগিদ দিয়েছি আমরা। কিন্তু বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কান্না করে ফিরেছে। ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে ও পরে যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে, তার কোনো বিচার হয়নি। সাহাবুদ্দিন কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। নির্বাচনে আমরা ভোট দিয়ে হামলার শিকার হয়েছি বারবার। আজকের জঙ্গিবাদ এই পরিস্থিতিরই চূড়ান্ত পরিণতি। আমরা এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে আছি।
আপনারা জানেন, নির্বাচন মানে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা ও নির্যাতনের উৎসব। এর মধ্যেই আমরা ধর্মীয় উৎসবগুলো যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের চেষ্টা করি। আপনাদের সাথে মতবিনিময়ে এই বিষয়গুলোর আবারো অবতারণা করছি এই কারণে যে, আমাদের উদ্বেগ ও শংকা আপনাদের জানানো প্রয়োজন। ধর্ম যার যার – রাষ্ট্র সবার- এই শ্লোগান এই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকেই আমরা প্রথম উচ্চারণ করি। আজ এই শ্লোগান সার্বজনীন শ্লোগানে পরিণত হয়েছে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীউৎসব উদযাপন বর্তমান সময়ে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে আমরা মনে করছি। প্রায় পাঁচহাজার বছর আগে অশুভ শক্তিকে দমন, সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক শুভশক্তিকে রক্ষা করতে ধরাধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জšে§র পর বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে রক্ষায় তিনি পরিত্রাতার ভূমিকা গ্রহণ করেন, অন্ধকার সরিয়ে দিয়ে আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলেন পৃথিবীকে।
নানা লীলার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে প্রকাশিত করেন, একদিকে দুষ্টের দমনে তাঁর কঠোর রূপ, অন্যদিকে প্রেমের মূর্ত প্রকাশ গোটা মানবজাতিকে শান্তি ও সত্যের পথ দেখায়। আমরা শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব উদযাপন করি অশুভ শক্তিকে পরাভূত করতে, যুগ যুগ ধরে যে শক্তি মানুষকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। সব ধর্মই এই অন্ধকার সরিয়ে দেয়ার জন্যেই কাজ করছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কোন ধর্ম সংঘাত ও বিদ্বেষ সমর্থন করে না। এই বিদ্বেষ, বৈষম্য ও সংঘাতের দেয়াল ভেঙে দিতে সার্বজনীনতাই আমাদের শক্তি। এ কারণে জন্মাষ্টমী আমাদের কাছে অর্থবহ ও প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশে হাজার বছরের ঐক্যবোধের চেতনা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, ঈদে মিলাদুন্নবী, জন্মাষ্টমী, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যচেতনা এই উৎসবগুলোর মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে, সার্বজনীনতার ভিত্তি প্রসারিত হয়েছে। যে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে, যে চেতনা ও মূল্যবোধ আমাদের এক রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আত্মদান করতে শিখিয়েছে তা এই ঐক্যচেতনারই অংশ। ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি এই চেতনাই। এই চেতনাকে ধারণ করে আমরা জাতীয় উৎসব উদযাপন করি। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এই শ্লোগান আজ সারাদেশে শুভ শক্তির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আজ জাতীয় জীবনে যে অমানিশা ঘনিয়ে আসছে, তার প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছে জাতীয় ঐক্য।
আমরা মনে করি, এই ধরনের জাতীয় উৎসব জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে। পরাস্ত করতে পারে পশুশক্তিকে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্র মহারণে অশুভ শক্তি বিণাশে যে পথ দেখিয়েছেন, এই পথই হতে পারে মানবজাতির আলোর দিশা। এই কুরুক্ষেত্র রণাঙ্গণেই সৃষ্টি হয় আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ শ্রীমৎভগবদগীতা, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী।
ইতিহাস বলে, ঢাকায় জন্মাষ্টমী একসময় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তারই ফলে ঐতিহ্য ও সার্বজনীন উৎসব জন্মাষ্টমীএক নতুন মাত্রা লাভ করেছিল। সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে জন্মাষ্টমীরশোভাযাত্রা ছিল এই উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু দেশভাগ নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে সাতচল্লিশের পর এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব, যার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ঢাকার নবাব পরিবার, বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীন বাংলাদেশে ঐক্যবোধের চেতনার ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। আজ উৎসবের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে সার্বজনীনতার পতাকা ঊর্ধে তুলে ধরছে, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসব। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাকে সমৃদ্ধ করছে, এই ধারাই কার্যত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী। এই জন্মাষ্টমী উৎসব দিনে দিনে আরও বিকশিত হচ্ছে।
এবারও জন্মাষ্টমীউদযাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে দুদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট ২০১৭ সকালে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী গীতাযজ্ঞ, বিকেলে ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা এবং রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা। এবারের শোভাযাত্রা আরও নতুন আঙ্গিকে এবং সমৃদ্ধ দৃশ্যপটে আয়োজিত হবে বলে আমরা আশা করছি। জন্মাষ্টমীশোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী-পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, পুলিশ হেড কুয়ার্টার, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ভবন, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায় সাহেব বাজার হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। আমরা সন্ধ্যার আগেই এই মিছিল শেষ করতে চাই, যাতে অংশগ্রহণকারীরা আগে ভাগেই ফিরে যেতে পারেন। আজানের সময় আমরা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সারাদেশে যারা জন্মাষ্টমীরমিছিল করবেন, তাদের কাছেও আমরা এই শৃংখলা রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। ১৮ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আপনারাও এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন, আশা রাখছি। আপনারা অবশ্যই অবহিত আছেন, জন্মাষ্টমীরবর্ণাঢ্য মিছিল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান করে নিয়েছে। এ জন্যে আপনাদেরও স্মরণযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে জন্মাষ্টমীরমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ ভক্ত এসব মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। সংবাদ মাধ্যমের বার্তা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনারা জানেন, ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রায় ২০ বিঘা দেবোত্তর সম্পত্তির মধ্যে এখন মাত্র ৬ বিঘা মন্দিরের হাতে আছে। মন্দিরের ভক্তমন্ডলীর সুবিধার্থে এবং সেবাকাজ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমরা বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কিছু হয়নি। এই মন্দির শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থান নয়, এটা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ। আমরা বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করছি, এ ব্যাপারে আপনাদেরও সহায়তা প্রয়োজন।
এ অবস্থার মধ্যেই আমরা জন্মাষ্টমীউৎসবের আয়োজন করেছি। আমরা মনে করি, ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে মনের শক্তির বিকাশ ঘটে। সার্বজনীন ভাব সম্প্রসারিত হয়, সবার সম্পৃক্ততা বাড়ে। আর পূজার্চনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তিকে পরাভূত করার দৃঢ়তা বাড়ে। আজ এই দৃঢ়তা আরও বেশি প্রয়োজন।
জন্মাষ্টমীউৎসবকে সামনে রেখে আমরা কিছু বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে গোটা জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। জন্মাষ্টমীউপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বাণী দেন। এই দিনটি সরকারি ছুটি। এই প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যুক্ত হলে উৎসব আরও সার্বজনীন হয়ে উঠবে, সমানাধিকারের বাণী সর্বত্রগামী হবে বলে আমরা মনে করি ঃ
১) যথাযথ জাতীয় মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
২) জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বঙ্গভবন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধান প্রধান সরকারি ভবন আলোকসজ্জিত করতে হবে।
৩) অন্যান্য উৎসবের মতো রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক জাতীয় পতাকা ও শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে সজ্জিত করতে হবে।
৪) কারাগার, হাসপাতাল ও অনাথ আশ্রম-এতিমখানায় সবার জন্যে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫) সরকারি বেসরকারি প্রচার মাধ্যমে দিবসব্যাপী অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করতে হবে।
আমরা মনে করি, সব ধর্মের প্রধান উৎসবগুলো সমান মর্যাদা সহকারে উদযাপিত হওয়া উচিত। এতে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের মর্যাদা বাড়বে, সমান অধিকারের শাশ্বত দিকটি প্রতিষ্ঠিত হবে। উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা আশা করি, আমাদের এই সংগ্রামে আপনারা অতীতের মতোই আমাদের পাশে থাকবেন।



