× Banner
সর্বশেষ
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৫০% কমানোর অঙ্গীকার বাংলাদেশের ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, ১৭ জেলার নদীবন্দরে সতর্কতা আজ ৪ শ্রাবণ মঙ্গলবারের রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবারের পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে সততা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন পাইলট প্রকল্পে ৯৯ হাজার শিক্ষার্থী পাবেন বিনামূল্যের পাটের স্কুল ব্যাগ সরকারের ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিমার্জনের উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে এনজিওদের এগিয়ে আসার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর ২০২৭ সালের হজে ব্যাকঅ্যাপ আবাসন ১% রাখার অনুরোধ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে – প্রধানমন্ত্রী

বৈরি আবহাওয়ায় হতাশ মেহেরপুরের লিচু চাষীরা

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০১৬

মেহের আমজাদ,মেহেরপুরঃ বৈরি আবহাওয়ার কারণে লোকসানের মুখে পড়েছে মেহেরপুরের লিচু চাষী ও বাগান ব্যবসায়ীরা। হতাশা প্রকাশ করে সে কথায় জনালেন এলাকার চাষী এবং বাগান ব্যবসায়ীরা। মাসাধিক কাল থেকে প্রচন্ড খরতাপে পুড়ে গেছে বাগানের লিচু। দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টিতে লোকসানের বোঝা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় সত্তর ভাগ লিচু পুড়ে ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ঘন ঘন সেচ ও ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করেও কোন লাভ হয়নি। এসব কারনে ফলন বিপর্যয়ে লোকসানের মুখে পড়েছে জেলার লিচু চাষীরা।

চৈত্রের শুরু থেকে মেহেরপুরের তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা  করেছে। লিচুর গুটি মোটা হতে শুরু করাকালীন সময় থেকে পাকা পর্যন্ত পুরো সময় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। বৃষ্টির অভাবে একদিকে লিচুর সাইজ হয়েছে ছোট অপরদিকে স্বাদের দিক থেকেও মিষ্টতা হয়েছে কম। বেশির ভাগ লিচুর গায়ে কালো দাগ পড়েছে। দীর্ঘদিন একটানা খরার কারণে বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুণছিল কৃষকেরা। অবশেষে একদিনের বৃষ্টিতে প্রাণীকূলে স্বস্তি এনে দিলেও কপাল পুড়েছে লিচু চাষিদের।

প্রচন্ড খরতাপে বাগানের লিচু পুড়ে শুকিয়ে যায়। শুকনো পোড়া লিচুর উপর বৃষ্টি পড়ায় ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে গাছের লিচু। ঘন ঘন সেচ ও ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এতে ফলন বিপর্যয়ের ফলে লোকসানের মুখে পড়েছে জেলার লিচু চাষীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে জেলায় প্রায় ৫৭৯ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। যা থেকে দুই হাজার মেট্রিকটন লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এখন চারভাগের এক ভাগ ফলন পাওয়ায় চাষী ও বাগান ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের লিচু চাষী সাখাওয়াত জানান, তিনি এবার বারাদি হর্টিকালচারের লিচু বাগান কিনেছিলেন। চৈত্র মাস থেকে একই ভাবে খরা চলছে। প্রচন্ড রোদে গাছের লিচু শুকিয়ে পুড়ে যাচ্ছে। সাইজ হয়েছে তুলনামূলক ছোট। স্বাদও হচ্ছে টক। যার কারণে বাইরের জেলা থেকে ফড়িয়ারা এসে লিচু পছন্দ করছে না।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে সত্তর থেকে আশি ভাগ লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। যা আছে তা খরিদ্দারে নিতে চাচ্ছে না। প্রতিটা লিচু চাষিকেই মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে।

মেহেরপুর শহরের ফুল বাগানপাড়ার লিচু চাষি জানান, ত্রিশ বছর থেকে লিচুর ব্যবসা করছি। এত রোদ আর গরম এর আগে কখনও দেখিনি। রোদের কবলে চার ভাগের তিন ভাগ লিচুই শেষ হয়ে গেছে। এক ভাগ ভাল পাওয়া যাচ্ছে। এই সামান্য লিচু বিক্রি করে কিছুই হবে না। বিশেষ করে যারা বাগান কিনেছে তারা এ বছর লোকসান গুণতে গিয়ে পুঁজিহারা হবে। একই কথা জানালেন মেহেরপুর শহরের লিচু চাষী হাসান, ফৌজদারি পাড়ার সামাদ, মন্ডলপাড়ার জামাল উদ্দীন।

ফলন বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.কে.এম কামরুজ্জামান জানান, মৌসূমের শুরু থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় দেশী জাতের আটি লিচু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাশাপাশি পাকা অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় লিচু ফেটে গিয়েছে। তবে চাইনা ও বোম্বাই জাতের লিচু পরে উঠায় ক্ষতির পরিমান কম হবে। এ ছাড়া সময়মত দুইবার বুষ্টিও হয়েছে। নিয়মিত বৃষ্টি না হলে বাগানে ঘন ঘন সেচ প্রদান করলে ভাল ফলন পাওয়া যায় বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..