বেনাপোল বন্দরে কেমিক্যাল পণ্য থেকে অগ্নিকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার বেনাপোলঃ বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে রাখা কেমিক্যাল পণ্য থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ্য করা হয়নি। সোমবার (০৪ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান বরাবর এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়ে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রেজাউল করিম।

এর আগে (০৩ জুন) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বন্দর, কাস্টমস, ফয়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ বিভিন্ন দফতরের ১০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন হয়। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বেনাপোল বন্দর পরিচালক ট্রাফিক (আমিনুল ইসলাম)। কমিটির সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ্য করে বাংলাদেশ স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বন্দরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম  জানান, তদন্তে জানা গেছে ট্রাক টার্মিনালটিতে কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য রাখা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই পণ্য বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কেমিক্যাল হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাস্থলে আমদানি পণ্যের প্রহরায় তিন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন।পরিকল্পিতভাবে কিছু ঘটেছে কিনা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমদানি কারক ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে আরও সময় লাগবে। এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্যেমিক্যাল পণ্য থেকে বিস্ফোরণের কথা জানালেও ব্যবসায়ীরা বলছেন বন্দরের অব্যবস্থাপনার কথা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, আমদানি পণ্য সুষ্ঠুভাবে রক্ষণা-বেক্ষণে দির্ঘদিন ধরে বন্দরে জাইগা অধিগ্রহণের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি। বন্দরে জাইগার অভাবে খোলা আকাশের নিচে আবার কখনো রাস্তার খাদে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমদানি পণ্য রাখা হচ্ছে। বন্দরে দাহ্য পদার্থ রাখার আলাদা পণ্যগার থাকলেও অনিয়ম করে সাধারণ পণ্যের গুদামে রাখা হচ্ছে। এতে ওইসব পণ্যগারে সামান্য আগুনের সূত্রপাত হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। বন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো কাজ আসেনি। এতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়ে পথে বসছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে প্রায়ই বন্দরে আগুনের ঘটনা ঘটলেও বন্দরের ফায়ার স্টেশনকে এখন পর্যন্ত আধুনিকায়ন করা হয়নি। যতোবার বন্দরে আগুন লেগেছে তা নেভাতে গিয়ে যশোর চেীগাছা, মনিরামপুর আবার কখনো ভারত থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগীতার প্রয়োজন হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌছাতে পৌছাতে দেখা যায় পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বেনাপোল বন্দরের অগ্নি-পরিদর্শক অহেন্দ্র কুমার দেবনাথ জানান, তাদের প্রয়োজনীয় যে সব সারঞ্জম আছে তাতে খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে জনবল সংকটের কারণে দ্রুত কাজ করতে পারছেন না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।