সারা ভারতে ডঃ বি আর আম্বেদকর জন্মদিন ভীম জয়ন্তী পালিত

সারা ভারতে ডঃ বি আর আম্বেদকর জন্মদিন ভীম জয়ন্তী পালিত

ভারত বর্ষে দলিতদের সমানাধিকার দেওয়ার লক্ষ্য়ে নিরন্তর লড়াই করে গিয়েছেন বাবাসাহেব আম্বেদকর। ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বি আর আম্বেদকর জন্মদিন ভীম জয়ন্তী হিসেবে সারা ভারতে জন্মদিন পালিত হয়। দেশবাসীকে উন্নয়নের প্রগতির পথের অনুসারী করতেই যেন এই দিনের উদযাপন।

আজ ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভারতের সংবিধানের স্থপতি ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকী। ভীমরাও রামজি আম্বেদকর এমনিতে বাবাসাহেব আম্বেদকর হিসেবেই সর্বজনবিদিত। একাধারে তিনি ছিলেন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ এবং আইনজ্ঞ। বিশ্ব জানে  ড. বি.আর. আম্বেদকর (Dr BR Ambedkar Jayanti 2022) একজন বিশিষ্ট দলিত নেতা যিনি সংবিধান পরিষদের বিতর্কে থেকে ভারতের সংবিধানের খসড়া কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। নারীর অধিকার ও শ্রমিকের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন আম্বেদকর।

আম্বেদকর ১৮৯১ সালের ১৪ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের মহুতে সুবেদার রামজি শাকপাল এবং ভীমাবাইয়ের চতুর্দশ সন্তান হিসাবে মহুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতা রামজি মালোজি সকপাল এবং মা ভীমাবাই মুরবাদকর। ১৪ এপ্রিল, আমরা আম্বেদকর জয়ন্তী সহ এই দিনটিকে “সমতা দিবস” এবং “জ্ঞান দিবস” হিসাবে উদযাপন করি।

আম্বেদকরবাদী সমাজকর্মী জনার্দন সদাশিব রানাপিসে ১৯২৮ সালে ভীম জয়ন্তীর উদযাপন শুরু করেছিলেন। সেই থেকে আম্বেদকরের জন্মদিবসটি দেশের ২৫টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জন্মসূত্রে  অন্ত্যজ শ্রেণির পরিবারে প্রতিপালিত হওয়ার জন্য শৈশব থেকেই নানবিধ বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। প্রথাগত শিক্ষা সম্পন্ন করার পর আরও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষায় নিজেকে তৈরি করেছিলেন আম্বেদকর। এরমধ্যে তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি অন্যতম। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি বিদেশ থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট করেছেন। ভারতের বর্ণভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উন্নতিতে আজীবন কাজ করে গিয়েছেন এই বরেণ্য মানুষটি। দশজুড়ে তাঁর জন্মদিনটি ‘সমতা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকর তার জীবদ্দশায় সাম্যের জন্য লড়াই করেছিলেন এবং এই কারণে তাকে সাম্য ও জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যিনি সবাইকে সমান বোঝেন, বাবাসাহেব আমাদের মহানদের স্বাধীনতা ও সুখে বাঁচতে শিখিয়েছেন এবং স্বাধীনতা ও সাম্যের মন্ত্র দিয়েছেন। “বাবা আম্বেদকর আমাদের শক্তিশালী করেছিলেন, তিনি আমাদের এমন একটি শিলা তৈরি করেছেন যা সরানো যায় না, তিনি আমাদের নতুন যুগের পরিচয় তৈরি করেছেন এবং এই দমকা হাওয়াকে ঝড়ের মতো করে তুলেছেন। “জ্ঞানের অপার সাগর, ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকরের তাঁর জন্মবার্ষিকীতে প্রণাম।”
“আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে জাগিয়ে তুললেন, চোখের জল ফেলে হাসলেন, আমাদের কখনো ভুলবেন না, সেই মহাপুরুষ যাকে বলা হয় বাবাসাহেব আম্বেদকর। শুভ জন্মদিন বাবা সাহেব…।”

তিনি ছিলেন ভীম, যিনি ভারতকে জাগিয়েছিলেন, আমরা শুধু ইতিহাস পড়েছি বন্ধুরা, আমাদের ভীম ছিলেন ইতিহাসের স্রষ্টা। একটি সম্প্রদায়ের অগ্রগতি পরিমাপ করি নারীরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা দিয়ে – ডঃ বি আর আম্বেদকর…।”

“যখন আমরা পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটি, দেখে শত্রুদের হৃদয় কেঁপে ওঠে, যখন আমরা একসঙ্গে থাকি, তখন ঝড়ও থেমে যায়, আমাদের পরিবর্তন করার চেষ্টাও করবেন না, কারণ আমরা যদি বদলে যাই, পুরো ইতিহাস বদলে যায়।” ফুলের গল্প লিখেছেন বাগানরা, রাতের গল্প লিখেছেন তারারা, আমরা কারও দাস নই, “যে দেশ বিলাসিতাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যিনি পতিত আত্মসম্মান শিখিয়েছিলেন, যিনি আমাদের সবাইকে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখিয়েছিলেন, দেশের মূল্যবান প্রদীপ যাকে “বাবা সাহেব” বলা হয়েছিল,  আমরা তার কথা হৃদয় থেকে অনুসরণ করব, সবাই। একসঙ্গে আমরা আম্বেদকর জয়ন্তী উদযাপন করব। শুভ বাবাসাহেব আম্বেদকর জয়ন্তী ২০২২…” ,

“আমার ভীম আমাকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছে, আমার ভীম শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন, আমার ভীম আমাকে শিখিয়েছেন অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে,  আমি অনেক উপরে উঠেছি, আমাকে উঁচু করে তুলেছি, আমার ভীম। শুভ আম্বেদকর জয়ন্তী। ..”

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বাবাসাহেবের কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি জানাতে তাই ভীম জয়ন্তী উদযাপনে দেশজুড়ে সবথেকে বেশি তৎপরতা দেখা যায় দলিত, অন্ত্যজ শ্রেণি ও শ্রমিকদের মধ্যে।

নতুন দিল্লির সংসদ ভবনে আম্বেদকর জয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি-সহ দেশের শীর্ষনেতা, কর্তাব্যক্তিরা। বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসী কৃষিক্ষেত্রে, শিক্ষাক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে, শিল্পে উন্নয়নের গতি এনেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।